মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী পৃথিবীতে ফিরে (স্প্ল্যাশডাউন) এসেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার সানদিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাসুটের মাধ্যমে অবতরণ করেছেন তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এই মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা মহাকাশের এমন গভীরে প্রবেশ করেছেন যেখানে এর আগে কেউ পৌঁছাতে পারেনি।
স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া এই অবতরণটি নাসার ওয়েবকাস্টে সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে প্রচার করা হয়। অবতরণের সময় নাসার ধারাভাষ্যকার রব নাভিয়াস বলেছেন, "ইন্টেগ্রিটি এবং এর চার নভোচারীর জন্য এটি একটি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অবতরণ।"
এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কয়েক মিনিট আগে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলকে মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেছেন, "দুই নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের একটি সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেয়েছি তবে গতকালের চেয়ে একে কিছুটা ছোট দেখাচ্ছে।"
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড তাপ ও বাতাসের চাপে আয়োনাইড গ্যাস বা প্লাজমার একটি লাল আবরণ তৈরি হয়েছিল যা ক্যাপসুলটিকে ঘিরে ফেলে। এ কারণে কয়েক মিনিটের জন্য নভোচারীদের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ঘণ্টায় ১৫ মাইল (২৫ কিমি) গতিতে দুইটি প্যারাসুট এবং ওরিয়ন নিচে পানিতে নেমে আসে।
সেখানে নাসা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর দলগুলো চার নভোচারীদের উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত ছিল। নভোচারীরা রাতে একটি নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থাতে অবস্থান করবেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এবং পরিবারের সাথে দেখা করতে স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) হিউস্টনে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে নাসা।
'আর্টেমিস ২' ছিল পরীক্ষামূলক অভিযান, যার লক্ষ্য ২০২৮ সাল থেকে নভোচারীদের পুনরায় চাঁদের পৃষ্ঠে নিয়ে যাওয়া। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা থাকলো না। কারণ লকহিড মার্টিন নির্মিত ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদ থেকে ফিরে আসার পথে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের চরম চাপ সহ্য করতে সক্ষম। নভোচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসা সেই বিষয়টি প্রমাণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।



৫৪ বছর পর চাঁদের ফার সাইডে মানুষের অভিযান শেষ হবে ১০ এপ্রিল