Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফ্রিল্যান্সিং করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ছেন ঝুমা বেগম

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ‘শিখবে সবাই’, যাদের অধিকাংশই এখন সফল ফ্রিল্যান্সার

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৭ পিএম

সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রায়ই দেখা মেলে শিক্ষিত বেকারদের হতাশাগ্রস্ত জীবনের চালচিত্র। ২০-২২টি বছর কষ্ট করে পড়াশোনার পর একটি চাকরি যোগাড় করতে পারছেন না অনেকেই। “সোনার হরিণ” সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের জরিপ অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। কিন্তু আইএলও এবং সিপিডি'র হিসেব অনুযায়ী এই সংখ্যা কয়েক কোটি। এই বেকার যুবকদের আইটিতে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান “শিখবে সবাই আইটি লিমিটেড”।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যাদের অধিকাংশই এখন সফল ফ্রিল্যান্সার।

এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত হাজারো গল্প। সংগ্রাম, পরিশ্রম, ভাগ্য, ত্যাগ এবং ঘুরে দাঁড়ানোর অকল্পনীয় গল্পগুলো অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে। তেমনই এক সংগ্রামী এবং সফল নারী ফ্রিল্যান্সার ঝুমা বেগম।

“শিখবে সবাই” থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স করে বর্তমানে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ক্রিয়েটিভ অ্যাড ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন সিলেটের ঝুমা বেগম। তিনি চাকরির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটেপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজও করছেন।

ঝুমা বেগম বলেন, “বিয়ের সাত মাসের মাথায় আমার স্বামী স্ট্রোক করে মারা যান। তখন আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী এবং চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কী করবো, কী করা উচিত কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হাজারো দুশ্চিন্তায় দিন পার হচ্ছিল। এরই মধ্যে পৃথিবীর আলো দেখলো আমার সন্তান। একই সঙ্গে পিতা এবং মাতার দায়িত্ব পালন করা শুরু করি। কিন্তু কিভাবে সন্তানকে মানুষ করবো, ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ করে তুলবো তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি।”

তিনি আরও বলেন, “এক পর্যায়ে আমার ভাইয়ের পরামর্শে গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করি। নিজের মতো করে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছিলাম। একদিন ইমরান হোসেন সজীব ভাইয়ার খোঁজ পাই। উনি মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনের মেন্টর। অ্যানিমেশনের প্রতি আমার আগ্রহ সবসময়ই ছিল কিন্তু কখনো ভাবিনি আমি নিজে শিখতে পারবো।”

“ইমরান সজীব ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। জানতে পারি তিনি ‘শিখবে সবাই'-এর মোশন গ্রাফিক্স মেন্টর হিসেবে আছেন। আমি উনার প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে যোগ দেই। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আমি নিয়মিত অনুশীলন করি। ছোট বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্ট করে এগিয়ে যেতে থাকি। বর্তমানে আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ক্রিয়েটিভ অ্যাড ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করছি। পাশাপাশি লোকাল মার্কেটপ্লেসেও ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছি। আমি স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতে নিজের একটি অ্যাজেন্সি খোলার। যেখানে নিজের মতো দল তৈরি করে কাজ করবো।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমার মেন্টর আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন, যতো বাধাই আসুক না কেন পরিশ্রম করলে সবকিছু মোকাবেলা করা সম্ভব।”

ইন্টারন্যাশনাল এবং লোকাল মার্কেট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক এইচটিএমএল-ফাইভ (HTML-5) ব্যানার অ্যানিমেশন এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্লায়েন্টের ১৫টির অধিক (GIF) অ্যানিমেশনের কাজ করেছেন ঝুমা বেগম। বর্তমানে তিনজনের একটি দল করে বিভিন্ন লোকাল এবং ইন্টারন্যাশনাল কাজ করে যাচ্ছেন।

দলের বাকি দুইজন সদস্যও “শিখবে সবাই” থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে জানিয়েছেন ঝুমা বেগম। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট করে তার মোট আট হাজার ডলারেরও (আট লাখ ২৫ হাজার টাকা) বেশি আয় হয়েছে।

সম্প্রতি তিনি ইউটিউবে তিনি একটি চ্যানেল খুলেছেন, যেখানে মোশন গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষণীয় অ্যানিমেশন ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চ্যানেলটি মনিটাইজেশনের অধীনে চলে আসায় সেখান থেকেও আয়ের একটি নতুন উৎস পেয়েছেন তিনি।

এমন হাজারো ঝুমা বেগমদের সফলতার পেছনে কাজ করছে “শিখবে সবাই”। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মেন্টর, অফিশিয়াল রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য।

“শিখবে সবাই”-এর চিফ অপারেটিং অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে অবদান রাখছে শিখবে সবাই। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ভালো করতে হলে প্রয়োজন পরিশ্রম, ত্যাগ এবং ধৈর্য।”

তিনি আরও বলেন, “পড়াশুনা শেষ করে বসে না থেকে প্রত্যেকের উচিত নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা।”

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, পিএইচপি এবং লারাভেল, মোশন গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো আরও বেশকিছু কোর্স করিয়ে থাকে “শিখবে সবাই”। এছাড়াও বেশকিছু সামাজিক উন্নয়ন প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করে চলেছে “শিখবে সবাই”। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রশিক্ষণ।  

অফলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণকে সমান অগ্রাধিকার এবং কোর্স পরবর্তী নিরবচ্ছিন্ন সাপোর্ট সেবা সারা দেশে দিয়ে যাচ্ছে “শিখবে সবাই”। যা শিখবে সবাই এর স্লোগান “বাদ যাবে না কেউ, শিখবে সবাই” এর সার্থকতা বহন করে।

About

Popular Links