Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চীনের তৈরি ডিপসিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এআই অ্যাপ হয়ে উঠলো?

চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো বিভিন্ন এআই মডেলকে পেছনে ফেলেছে ডিপসিক এআই মডেল

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম

গত কয়েকদিন ধরে প্রযুক্তি দুনিয়াতে আলোচিত এক নাম চীনের তৈরি ডিপসিক এআই। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের তৈরি এই এআই মডেলটি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অনেকেই দাবি করছেন চীনের তৈরি এই এআই মডেলটি কার্যক্ষমতার দিক দিয়ে চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো মডেলকে পেছেনে ফেলে দিয়েছে। ফলে অনেকে ধরেই নিয়েছেন যে বর্তমান প্রযুক্তির দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য হুমকির মুখে ফেলেছে চীন।

ডিপসিকের তৈরি এই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই চালিত চ্যাটবট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অ্যাপল স্টোরের সবচেয়ে বেশিবার ডাউনলোড করা ফ্রি অ্যাপের তালিকায় সবার ওপরে ওঠে এসেছে। এই অ্যাপের হঠাৎ এমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ডিপসিকের খরচের পার্থক্য প্রযুক্তির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

এই এআই মডেলকে সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তা মার্ক আন্দ্রিসেন “অন্যতম যুগান্তকারী আবিষ্কার” হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে তাদের নতুন এই এআই মডেল বাজারের শীর্ষ এই মডেল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চ্যাটজিপিটির সমকক্ষ। তবে চ্যাটজিপিটির তুলনায় তাদের এআই মডেল তৈরিতে খরচ হয়েছে তুলনামূলক অনেক কম।

লিয়াং ওয়েনফেং হলেন ডিপসিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি হেজ ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে এই ডিপসিক এআই মডেলটি তৈরি করেন। ওয়েনফেং মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় বিপুল সংখ্যক এ-১০০ চিপ জমা করছিলেন বলে বলা হয় যা বর্তমানে চীনে রপ্তানি করা বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তার সংগ্রহে থাকা এই চিপগুলোই তাকে ডিপসিক প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে। এই ধরনের চিপের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম দামী চিপ সংযুক্ত করে, যেগুলো এখনও চীনে রপ্তানি করা হয়, তিনি ডিপসিক তৈরি করেছেন বলে ধারণা করা হয়।

অ্যাপটি অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও ডিপসিকের ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। বিনা মূল্যের এই অ্যাপটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপল স্টোরের ডাউনলোড হওয়া শীর্ষ অ্যাপে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে সর্বোচ্চ রেটিংয়ের ফ্রি অ্যাপ হিসেবেও পরিণত হয়েছে।

ডিপসিক জনপ্রিয়তার কারণ হলো শক্তিশালী এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট টুলের জন্য। এটির কার্যক্রম প্রায় চ্যাটজিপিটির মতোই। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, এটি তৈরি করা হয়েছে ব্যবহারকারীর কর্মদক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।

এনভিডিয়ার মতো মার্কিন কোম্পানি কেন এতো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

ডিপসিকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই অ্যাপগুলো তৈরির তুলনায় তাদের এআই তৈরিতে তুলনামূলক অনেক কম খরচ হয়েছে। আর এই খরচের তারতম্যের কারণেই এআইয়ের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের টিকে থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিবিসির তথ্য মতে, ডিপসিকের এই এআই অ্যাপ তৈরিতে কম খরচ হওয়ার বিষয়টি সোমবারের পুঁজি বাজারের হিসেব বদলে দিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চিপ তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ও ডেটা সেন্টারের মত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় অঙ্কের পরিবর্তন এসেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া, যারা এআই পরিচালনার জন্য শক্তিশালী চিপ তৈরি করে থাকে। সোমবার এই প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য কমেছে ৬০ হাজার কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনের হিসেবে কোনো একটি কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ।

এতোদিন একটি ধারণা ছিল যে এআইকে উন্নত করার জন্য বড় অঙ্কের বাজেট এবং অত্যাধুনিক চিপ অবশ্য প্রয়োজনীয়। তবে ডিপসিকের এমন সাফল্য এই ধারণাকে এবং ভবিষ্যতে এআইয়ের বাজারকে বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

   

About

Popular Links

x