Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাটিমন আম সম্পর্কে কতটা জানেন?

বাজারে কদর বাড়ছে বারোমাসি এই আমের

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৯:১৫ পিএম

পুষ্টিগুণ এবং স্বাদের কারণে বিশ্বজুড়ে আম বেশ জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশেও অন্যান্য ফলের তুলনায় আমের জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা ব্যাপক। বাংলাদেশে দেশীয় আম সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমে পাওয়া যায়। তবে, চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইদানিং বারোমাসি আমের বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন দেশের চাষিরা।

বারোমাসি আমের অন্যান্য জাতের চেয়ে বর্তমানে বাজারে কাটিমন আমের আধিপত্য বেশি। দেশীয় আমের মৌসুমের বাইরে বছরজুড়ে এই আম উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে চাহিদা প্রচুর। পাইকারি পর্যায়েই প্রতি কেজি আম ৩০০থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

কাটিমন আম

কাটিমন আম মূলত থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি। একে সুইট কাটিমনও বলা হয়। স্বাদে এই আম বেশ মিষ্টি হয়। এছাড়া আঁশ না থাকার কারণে এর চাহিদা বেশি। বাংলাদেশে কাটিমন আমকে অমৃত নামেও ডাকা হয়।

বর্তমানে সারাদেশেই এই আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায়।

ফেব্রুয়ারি, মে ও নভেম্বর মাসে কাটিমন আম গাছে মুকুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন ও জুলাই-অগাস্ট মাসে আম পাকে। তবে মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশীয় নানা জাতের আম থাকার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে মুকুল ভেঙে দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এই আমের ফলন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তখন হেক্টর প্রতি ছয় থেকে সাত টন আম তোলা যায়। মার্চ-এপ্রিলের দিকে হেক্টর প্রতি দুই থেকে তিন টন আম পাওয়া যায়।

উচ্চ ফলনশীল কাটিমন আমের প্রতিটির ওজন ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই আম থোকায় থোকায় হয়। প্রতিটি থোকায় পাঁচ থেকে ছয়টি আম ধরে।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কাটিমন আম চাষ করা হয়। এসব দেশ এই আম রপ্তানিও করে থাকে।

থোকায় থোকায় হয় কাটিমন আম/বিবিসি

চাষ পদ্ধতি

সাধারণত পলিযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটিতে কাটিমন আমের গাছ ভালো হয়। মাটির পিএইচ বা অ্যাসিডিটির মাত্রা ছয়-সাত থাকলে ফসল ভালো হয়। যেহেতু বিদেশি প্রজাতি তাই এটি চাষে একটু বাড়তি যত্ন দরকার হয়। বিশেষ করে যখন মুকুল আসে তখন যাতে এটি ঝরে না পড়ে তার জন্য রুটিন মেনে বালাইনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।

প্রতি ছয় ফুট বাই পাঁচ ফুট জায়গা পর পর একটি করে এই আমের চারা লাগাতে হয়। চারা লাগানোর দুই বছর পর থেকে ফলন পাওয়া শুরু হয়। একবার গাছ লাগানোর পর ২০ থেকে ৩০ বছর ফলন পাওয়া যায়। নিয়মিত গাছে পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান দিতে হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা অবলম্বনে

   

About

Popular Links

x