Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনশন ভাঙলো কুয়েট শিক্ষার্থীরা, সরানো হচ্ছে ভিসি প্রো ভিসিকে

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিজয় হয়েছে, সত্য কখনো হারে না। ভিসির পদত্যাগ নয়, পতন হয়েছে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:০৯ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অনশনরত শিক্ষার্থীরা ৫৬ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা অনশন ভাঙেন তারা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া চলমানের ঘোষণায় তারা অনশন ভাঙতে সম্মত হন। খুলনায় উপস্থিত ইউজিসি দলের প্রতিনিধি তাদের অনশন ভাঙান। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি আনন্দ মিছিল বের করে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার লক্ষে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে একটি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ দুটি পদে নতুন নিয়োগ প্রদান করা হবে। অন্তর্বর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকগণের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাছুদ নিজে থেকে পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “সরকার চাইলে পদ ছাড়ব, নিজে থেকে নয়।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিজয় হয়েছে। সত্য কখনো হারে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ভিসির পদত্যাগ নয়, পতন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে কুয়েটের ৩২ শিক্ষার্থী উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে ২১ এপ্রিল বিকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করে। শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল ২৩ এপ্রিল সকালে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অনশন ভাঙাতে পারেননি। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ভিসির পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন।

   

About

Popular Links

x