শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের দাবিতে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে অনশন শুরু করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
অনশন কর্মসূচি শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া।
তিনি বলেন, “আমরা যখন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে এসেছি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ফিরবো না। এই মুহূর্ত থেকে আমাদের গণঅনশন শুরু হলো।”
এর আগে, বিকেল ৩টায় সমাবেশে “জবি ঐক্য”র পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন।
তিনি বলেন, “আন্দোলন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে, আমাদের আর পেছনে ফেরার জায়গা নেই। বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরছি না।”
উপদেষ্টা মাহফুজের ওপর ‘প্রতীকী বোতল’ নিক্ষেপ
আবাসন সংকট নিরসনসহ চার দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থানস্থলে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর “প্রতীকী বোতল” নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে শিক্ষার্থীরা এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংলগ্ন রাস্তার ওপর তিনটি প্লাস্টিকের ঝুড়িতে “সান্ডা মাহফুজ” লেখা সাঁটিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর পালাক্রমে শতাধিক শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ শুরু করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, তার মাথায় বোতল নিক্ষেপের ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের শিক্ষকরা তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি পুরো বিষয়টিতে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। উপদেষ্টা মাহফুজের আচরণকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, “মাহফুজের সঙ্গে যেটা হয়েছে তার জন্য আমাদের শিক্ষকরা পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার ক্ষমতার অহংকারের জন্য পরিবেশ অন্য রকম হয়ে গেছে। তার আচরণ ঠিক করার দরকার ছিল। তার আচরণের জন্য ঘৃণা প্রকাশ করছি।”
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন বলেন, “মাহফুজ আমাদের পক্ষে অবস্থান না করে পুলিশের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা আজকে সান্ডা মাহফুজের উপরে প্রতীকী বোতল নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করছি।”
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সমাবেশ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০টি বাস চক্রাকারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে নিয়ে এসেছেন।
স্লোগানে উত্তাল কাকরাইলের রাজপথ
কাকরাইল মোড়ে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন। তারা “এক দুই তিন চার, হল আমার অধিকার”, “রক্ত লাগলে রক্ত নে, হল আমার অধিকার”, “জবিয়ান আসছে, রাজপথ কাঁপছে”, “বৈষম্যের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “যে হাত ছাত্র মারে, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও”, “ভুজুংভাজুং বুঝি না, আইসা পড়ছি যমুনা”, “বিপ্লবে বলিয়ান, নির্ভীক জবিয়ান” ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে “জবি ঐক্যের” পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আজকের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়েই অবস্থান করবে শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “আমরা সরকারের নিকট আমাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মেরেছে। কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়ে কোন কর্ণপাত করেনি। সরকার থেকে কোনো বার্তা আসেনি।”



আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন জবির সাবেক শিক্ষার্থীরাও
সকালে সমাবেশ, জুমার পর গণ-অনশনের ঘোষণা জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের