বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) সই হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হয়।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।
এতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
যেসব চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও কর্মসূচি সই হয়েছে সেগুলো হলো:
চুক্তি
দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি সই হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক
সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ): দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা।
কর্মসূচি
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সংস্কৃতিবিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) সই।
জানা গেছে, বৈঠকে একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের আগে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া সম্পদের হিস্যার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া, ব্যবসা-বিনিয়োগ, কৃষিসহ অন্যান্য বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। এ সময় দুই দেশই সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দুদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম।এরপর বিকেলে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসহাক দার।
এদিকে, রবিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেখতে তারপর গুলশানের বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে ইসহাক দারের।



খালেদা জিয়াকে দেখতে রবিবার বাসভবনে যাবেন ইসহাক দার