রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। শিল্পী বেগমের সঙ্গে তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানও রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চানখাঁরপুল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই শিল্পী বেগমের নির্দেশনায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। হামলায় আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর এবং বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আদালত থেকে বের করার সময় শিল্পী বেগমকে কাঁদতে দেখা যায়। এ সময় আদালতের বারান্দার বেঞ্চে বসে তিনি তার দেড় মাস বয়সী শিশুকে দুধ খাওয়ান। পরে সন্তানকে কোলে নিয়েই তিনি আদালতের হাজতখানায় প্রবেশ করেন।
এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আজ বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন আবেদন করে আদালতে বলেন, “শিল্পী বেগমের মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের একটি সন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। মানবিক কারণে যেকোনো শর্তে তার জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।”



