গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শিশু (৭) ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিনকে (৬০) সালিস বৈঠকে ডেকে এনে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপির সদস্যের বিরুদ্ধে। দুই দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ওই ব্যক্তি মারা যান।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাংবাদিকদের কাছে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জয়নালকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর থেকে শিশুর পরিবার পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে নিজ বৃদ্ধকে দাফন করা হয়। সোমবার (১১ মে) গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আহত জয়নালের মৃত্যু হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান বাজারে জয়নাল আবেদিনকে ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে হামলা করে পিটিয়ে আহত করা হয়।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের মৃত নঈমুদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।
নিহত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, “শনিবার (৯ মে) ফাওগান বাজারের পাশে বাবার বিরুদ্ধে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যসহ তার লোকজন। পরে প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশিদুল ইসলাম ফাওগান বাজারের পাশে স্কুল মাঠে বাবাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে রাশিদুল ইসলাম বাবাকে তিন দফা পিটিয়ে আহত করেন। পরে বাজারের পাশে তমিজ উদ্দিনের ফার্মেসির সামনে ফেলে রেখে যান। সেখান থেকে বাবাকে উদ্ধার করে বাড়ির কাছে নিয়ে এলে তারা আবারও সেখানে বাবাকে মারধর করার পর বসতবাড়িতে হামলা করা হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম ধর্ষণের সাজানো মিথ্যা অভিযোগে জয়নাল আবেদিনকে স্কুল মাঠে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”



