নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ সায়মা (৩২) নামের আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের সবাই মারা গেলেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান তিনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার ছেলে মুন্না (১২), দুপুরে মেয়ে মুন্নি (৭) মারা যায়। বুধবার মৃত্যু হয় আরেক মেয়ে কথার (৪)। এর আগে সোমবার মারা যান তার স্বামী আবুল কালাম (৩৫)।
সায়মা আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান।
তিনি বলেন, “সায়মার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৬০% দগ্ধ হয়েছিল। হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানেই আজ সকালে তিনি মারা যান। এর আগে মুন্নার শরীরের ৪০%, মুন্নির ৩৫%, কথার ৫২% এবং কালামের শরীরের ৯৫% দগ্ধ হয়েছিল। এতে ওই পরিবারের পাঁচজনই মারা গেলেন।”
গত রবিবার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কালাম, তার স্ত্রী সায়মা আক্তার, তাদের ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে কথা ও মুন্নি।
তাদের হাসপাতালে নেওয়া প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, রোববার সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে তাদের নেওয়া হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।
তিনি জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, গিরিধারার ওই বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন সবজি বিক্রেতা কালাম। তিতাসের লাইনের লিক থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা।



চুলা জ্বালাতেই বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন 