Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিক্রি হলো ৫৬ মণের গরু ‘মানিক’, খাওয়ানো হবে এতিমদের

ঈদের তৃতীয় দিনে এ গরু জবাই করে এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হবে

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

টাঙ্গাইলের খামারি হামিদা আক্তার (২৯) দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পরম মমতায় সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন সাদা-কালো রঙের একটি ষাঁড়, যার নাম ‘মানিক’। প্রায় ৫৬ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি ঘিরে ছিল তার স্বপ্ন, পরিশ্রম আর সংগ্রামের গল্প। 

গত বছর ঈদে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত ক্রেতা না আসায় বিক্রি হয়নি গরুটি। পরে ধারদেনা করে আরও এক বছর পালন করেন তিনি। 

এ বছর ১৮ লাখ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই ক্রেতাও ফিরে না আসায় তিনি চরম অর্থকষ্টে পড়েন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানিক’ ভাইরাল হলেও খামারি হামিদার বাস্তব সংকট তখন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদের আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন ন্যায্যমূল্যে গরুটি কিনে নেয়। এতে কিছুটা হলেও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পান এই নারী খামারি। 

গরুটি বর্তমানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরে ফাউন্ডেশনের খামারে রাখা হয়েছে। আসন্ন ঈদের তৃতীয় দিনে এটি জবাই করে এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা।

ফাউন্ডেশনের কর্মচারী রেহেনা বেগম বলেন, “মানিককে উন্নত খাবার দিয়ে যত্নে রাখা হচ্ছে। ঈদের পর রান্না করে এতিমদের খাওয়ানো হবে।” 

খামারি হামিদা আক্তার বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গরুটি লালন করেছি। অনেক কষ্ট, ঋণ আর পরিশ্রমের পর শেষ পর্যন্ত কিছু ঋণ শোধ করতে পেরেছি। এখনো কিছু ঋণ আছে। তবুও আলহামদুলিল্লাহ।” 

তিনি আরও জানান, পরিবারের দায়িত্ব, পড়াশোনা ও খামার সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করেছেন। 

আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, “অনলাইনে হামিদার কষ্টের গল্প সামনে আসার পর ফাউন্ডেশন উদ্যোগ নেয়। ঈদের তৃতীয় দিনে গরুটির মাংস রান্না করে এতিম ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হবে।” 

   

About

Popular Links

x