Friday, August 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ৭০০ কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে মাদকসেবীদের

গোপালগঞ্জে মাদকসেবীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর স্প্রে করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কলাচাষী

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

গোপালগঞ্জে মাদকসেবীদের সঙ্গে এক কলাচাষীর বাগ্‌বিতণ্ডার জের ধরে ৭০০ কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এতে কৃষকের অন্তত ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাদকসেবীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে কলাচাষী হুমায়ুন মোল্লা অভিযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলার মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হয়। এ ব্যাপারে ওই কলাচাষী মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । 

কলাচাষী  হুমায়ুন মোল্লা বলেন, “৬ দিন আগে কলার বাগানে আসি। এসময় একই গ্রামের মেহেদি ও রবি নামের দুইজন কলার বাগান থেকে বের হচ্ছিল। তাদের জিজ্ঞাসা করলে, তারা ইয়াবা সেবন করে বের হচ্ছে বলে জানান। কলা বাগানে ইয়াবা সেবন করতে নিষেধ করি। এসময় তাদের সঙ্গে আমার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা আমার বাগানের ক্ষতি করার হুমকি দেন।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর আমি পেয়ারা বিক্রি করতে ঢাকা যাই। বুধবার রাতে মুকসুদপুরে ফিরে আসি। বৃহস্পতিবার কলাবাগানে গিয়ে দেখি কলার আকৃতি বেঁকে গেছে। কলার ভেতরে পচে গেছে।  গাছ ও পাতায় পচন ধরেছে। বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসকে জানাই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমার কলাবাগান পরিদর্শন করেছেন। এতে আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাদকসেবীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্যারাকুয়াট বা গ্লাইফসেট জাতীয় কিছু এখানে স্পে করা হয়েছে। ধারণা করছি ৩-৪ দিন আগে এটি স্প্রে করা হয়। এতে কলার আকৃতি বেঁকে গেছে। গাছে পচন ও মড়ক লেগেছে। এ বাগানের ৭০০ কলাগাছে এগুলো স্প্রে করা হয়েছে। এতে কলাচাষীর  প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। করণীয় সম্পর্কে অবহিত করেছি।”

অভিযুক্ত মেহেদি ও রবি’র পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া সংবাদমাধ্যম কর্মীরা মেহেদি ও রবি’র দেখা পাননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে কলাবাগান পরিদর্শন করি। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে আলোচনা করে কলাচাষীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কলাচাষী অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি মামলা করতে চান না। এ কারণে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।”

   

About

Popular Links

x