Friday, September 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আগামী সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমন উভয় ধরনের যাত্রীই নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবেন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম

আগামী সপ্তাহে চালু হবে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল। অক্টোবরে পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর আগে এই পদক্ষেপ পর্যটনের প্রবেশদ্বারটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন টার্মিনালটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমনের উভয় কাজে ব্যবহার করা হবে।”

গত বুধবার কক্সবাজারে চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিদর্শন করা বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “বিমানবন্দরে পরিচালনাকারী সব অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনস তাদের যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে বিমান ও টার্মিনাল ভবনের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে এয়ারলাইনসগুলো গলফ কার্ট ব্যবহার করবে এবং অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনার পর আগামী মাসে এই বিমানবন্দর থেকে আমরা আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধন করবো।”

নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক সোহেল মজিদ জানান, নতুন টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য পরিচালনার লক্ষ্যে তারা সব প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

তিনি বলেন, “নতুন টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য গলফ কার্ট মোতায়েনসহ আমাদের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

নতুন টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সম্প্রসারণসহ বিমানবন্দরটির উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগের পর সরকার অক্টোবরে কক্সবাজারকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শেষ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোও এই সমুদ্রশহর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান বলেন, “আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা একটি হাইব্রিড ব্যবস্থায় পরিবর্তিত হবে।”

পরিকল্পিত ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমন উভয় ধরনের যাত্রীই নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবেন।

এরপর অভ্যন্তরীণ আগমনকারী যাত্রীরা বিদ্যমান টার্মিনাল ব্যবহার করবেন এবং অভ্যন্তরীণ বহির্গমনকারী যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বোর্ডিংয়ের অপেক্ষায় পুরোনো টার্মিনালে যাবেন।

নতুন টার্মিনালটি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেবিচক কর্তৃক বাস্তবায়িত বৃহত্তর একটি কর্মসূচির অংশ, যার লক্ষ্য কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনায় সক্ষম করে তোলা।

বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর একটি কক্সবাজার। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ওঠানামা করে।

বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বিমানবন্দরে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প ও একটি কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বেবিচক।

প্রায় ১৭,৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অনুমোদিত ব্যয়ে একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে।

টার্মিনালে ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি ডিপার্চার লাউঞ্জ, একটি শুল্কমুক্ত দোকান, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক, বহির্গমন ও আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং একটি অ্যারাইভাল লাউঞ্জ রয়েছে।

বহির্গমনকারী যাত্রীদের জন্য চারটি এবং আগমনকারী যাত্রীদের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের জন্য দু'টি লাগেজ ডেলিভারি বেল্ট সরবরাহ করা হয়েছে।

টার্মিনালে পাবলিক অ্যাড্রেস (পিএ) এবং ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম (এফআইডিএস), সাইনেজ, সিসিটিভি এবং ভারী হাতব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রসারণের পর বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুটি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩৬,৩০০ বর্গমিটারের একটি অ্যাপ্রন দু'টি ট্যাক্সিওয়ের পাশাপাশি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ যানবাহনের জন্য পার্কিং সুবিধা, অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামোও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় মান যাচাইয়ের পর বিমানবন্দরটি আইসিএও সনদ পেয়েছে।

রূপান্তরের আরেকটি বড় অংশ হলো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯,০০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০,৭০০ ফুট করা, যা এটিকে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়েতে পরিণত করেছে। রানওয়ে ১,৭০০ ফুট সম্প্রসারণের জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

সম্প্রসারিত রানওয়েটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং বোয়িং ৭৪৭-৪০০ উড়োজাহাজসহ সম্পূর্ণ বোঝাই ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩,৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১,৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চীনা যৌথ উদ্যোগ সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের দিকে সম্প্রসারিত প্রায় ২,২০০ ফুট প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং এবং নিরাপদ উড়োজাহাজ পরিচালনার সুবিধার্থে একটি ক্যাট-টু এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রানওয়েকে সুরক্ষিত রাখতে ১.৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বেড়া, টহল সড়ক এবং ৮,১৪৯ মিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ ব্যবস্থাও প্রকল্পের অংশ।

সরকরের প্রত্যাশা, সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ কক্সবাজারে আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে এবং হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

   

About

Popular Links

x