Saturday, October 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালক গ্রেপ্তার

গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

গাজীপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৮) একাধিকবার যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগে কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষক এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির পরিবার মামলা করলে তিনজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর (ডেঙ্গুর আলী সড়ক) এলাকার দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। মামলার আসামিরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্য ধলডোর (বাগবাটি) এলাকার অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), গাছা থানাধীন শরীফপুর এলাকার মোহাম্মদ মিজান (৩৮) এবং একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। অলিউল্লাহ ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও মামলার প্রধান আসামি, আর মিজান মাদ্রাসার পরিচালক। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে মিজান ও কুদ্দুস শেখের বিরুদ্ধে।

গ্রেপ্তার হওয়া অলিউল্লাহ ইসলামকে ঢাকার বাইরে থেকে এবং মোহাম্মদ মিজানকে ঢাকার আশপাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে শিশুটির পরিবার উল্লেখ করেছে, ছেলে মাদ্রাসার আবাসিক বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। গত ৭ অক্টোবর বিকেলে তাকে বোর্ডিংয়ে রেখে আসা হয়। ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি দুপুরের খাবার খেতে বাসায় এলে গোসলের সময় শারীরিক কষ্টের কথা জানায়। কারণ জানতে চাইলে সে পরিবারকে জানায়, ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে রাতে শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে একাধিকবার যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন। বিষয়টি মাকে জানালে মারধর করা হবে বলেও শিশুটিকে ভয় দেখানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনা জানার পর শিশুটির মা মাদ্রাসায় গিয়ে পরিচালক মোহাম্মদ মিজানকে বিষয়টি জানান। কিন্তু তিনি তালবাহানা করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিচার-শালিস বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তকে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আব্দুল কুদ্দুস শেখকে বিষয়টি জানানো হলে তিনিও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং শিশুটির অভিভাবককে ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর একই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থীও (১০) প্রধান আসামির বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে।

ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, “শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আব্দুল কুদ্দুস শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।“

   

About

Popular Links

x