পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. করিম শিকদারের (৫৫) বিরুদ্ধে ভাণ্ডারিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
অভিযুক্ত করিম শিকদার উপজেলার ৩ নম্বর তেলিখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তেলিখালী এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে শিশুটির বাবা তাকে কঁচা নদীর পাড়ে একটি নৌকায় বসিয়ে রেখে কচুরিপানা ও গোখাদ্য সংগ্রহে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বাবার অনুপস্থিতির সুযোগে অভিযুক্ত করিম শিকদার শিশুটিকে নদীর তীরের নির্জন স্থান ও সংলগ্ন ধইঞ্চাবনে নিয়ে নির্যাতন করেন। ঘটনার পর শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিষয়টি চেপে রাখার চেষ্টা করা হয়।
হায়দার মাতুব্বর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে একপর্যায়ে আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা জানাই। তার শরীরে আঘাত ও নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমরা এই পৈশাচিক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” শিশুটির মা খাদিজা বেগমও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
শিশুটির চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহারের পর নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত আসামি করিম শিকদারকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।



