Tuesday, October 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় সাবেক এমপির ছেলে গ্রেপ্তার

বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলায় স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর নিহত শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন।

নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর শহরের খামারনাচকৈড় টলটলিপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় সোমবার রাত আটটার দিকে মারা যান। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তার বাবা।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন সৃজন দাবি করেছেন, শাকিল হত্যায় যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদ সদস্যের ছেলে মিন্টুর জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজের পাশে হামলার শিকার হন শাকিল। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং একটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন।

   

About

Popular Links

x