রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের সায়েন্সল্যাবে একটি তিনতলা ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। এর আগে ভবনটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের শব্দ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- শফিকুজ্জামান, আব্দুল মান্নান ও তুষার।
রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ভবনটিতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পরপরই ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণে ভবনটির দেয়াল ধসে কয়েকজন দোকান কর্মচারী ও পথচারী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে পপুলার হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে নেওয়া হয়। পপুলার হাসপাতালে নেওয়া তিনজনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বার্ন ইনস্টিউটের সম্বনায়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের এখানে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের কয়েকজনের ইনহেশন বার্ন রয়েছে, এছাড়াও কয়েক জনের ২০ থেকে ৪০% দগ্ধ হয়েছে।” তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বার্ন ইনিস্টিউটে চিকিৎসাধীনরা হলেন- নুর নবী (২৩), আকবর আলী (৫২) আশরাফুজামান (৩৬) আশা (২৫) হাবিবুর রহমান(৩২) জহুর আলী (৫২)
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন- জাকির হোসেন জুয়েল (৩৫), মেহেদী হাসান (২৫) তাজ উদ্দিন (৩০) কবির হোসেন (৩০) রাবেয়া খাতুন (২৫) নুর নবী (২৪) অজ্ঞাত (৪০) কামাল হোসেন (৪০)।
আহতদের অবস্থা সম্পর্কে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত ৮ জনকে পেয়েছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। বাকিদের অধিকাংশরা নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। হেড ইনজুরিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজুরি রয়েছে।”
জানা গেছে, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে পলাশী, ধানমন্ডি টহল এবং সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনসহ মোট চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিরিন ম্যানশন নামের ভবনটিতে দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ভেসে আসে। বিস্ফোরণে দেয়ালের ইট ও কাঁচ ছিটকে সড়কে পড়ে। এতে করে ফুটপাতে থাকা পথচারী ও সিএনজিচালকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, ভবনটির নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় বেশ কয়েকটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তিন তলায় ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস রয়েছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আসছেন, তারা আসলে তদন্তের পর জানা যাবে কী কারণে এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় দেয়ালের কিছু অংশ পড়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা এক সিএনজি চালক আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে বিস্ফোরণের সময় ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি।



