Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডিবি: টিপু হত্যায় জড়িত থাকার কথা ‘স্বীকার’ করেছে মুসা

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে মুসা এই হতাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ০১:০৫ পিএম

মতিঝিলের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সুমন শিকদার মুসা “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন” বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, “প্রাথমিকভাবে তিনি এই হতাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আজ আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাফিজ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে মুসা ছাড়াও আর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কারাগারে আছেন। তাদের রিমান্ডে এনে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসা করে আরও তথ্য চাওয়া হবে। তখনই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই হত্যাকাণ্ডটি কার নির্দেশে হয়েছে এবং আর কারা জড়িত।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, এ ডাবল মার্ডারের ঘটনায় বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার শুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে মুসার নাম আসে। পরে জানা যায় মুসা ঘটনার আগেই ১২ মার্চ দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত চলে যান।

তার সন্ধান পেতে ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখায় যোগাযোগ করা হয়। সে অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তর ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে। এর মধ্যে ৮ মে জানা যায়, মুসা দুবাই থেকে ওমানে প্রবেশ করেছেন।

ইন্টারপোলের ওমান পুলিশ এনসিবির সহযোগিতায় গত ১২ মে মুসাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের একটি টিম ওমানে গিয়ে বৃহস্পতিবার মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

ডিবি প্রধান বলেন, মুসাকে না পেয়ে আমরা মামলার তদন্তে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিলাম। এখন তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১৫ দিনের রিমান্ড চাইবো।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তদন্তে কার দায় আছে-নেই অথবা কে বাদ বা যুক্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মুসাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আমরা মামলাটি এগিয়ে নিতে পারব।

গত ২৪ মার্চ রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহিদুল ইসলাম টিপু প্রাইভেটকারে করে শাহজাহানপুর আমতলা হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে জাহিদুল ও তার গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২৫ মার্চ দুপুরে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। যিনি সরাসরি টিপুকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন। ২ এপ্রিল মুসার ভাই সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

সেসময় র‍্যাব জানায়, চাঁদাবাজি ও দরপত্র নিয়ে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যার বদলা এবং বোঁচা বাবু হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওমর ফারুকসহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

   

About

Popular Links

x