Tuesday, July 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিষিদ্ধ হচ্ছে পরিবেশের জন্য হুমকি অ্যাকুরিয়ামের ‘সাকার ফিশ’

ডোরা কাটা চেহারা আর টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে অ্যাকুরিয়ামের মাছ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে সাকার ফিশ। এদের খাদ্য মূলত জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ। পানি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে মাছটি

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৩৪ পিএম

অ্যাকুরিয়ামের শোভা বাড়ানো “সাকার মাউথ ক্যাটফিশ” দেশীয় প্রজাতির মাছের রেনু খেয়ে ফেলে এবং জীববৈত্র্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছটি জলাশয়ের শ্যাওলা জাতীয় খাবার খেয়ে ফেলে। এরা সংখ্যায় বেড়ে গেলে তা বাস্তুসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অন্য মাছের খাবারের সংকট দেখা দিতে পারে। তখন সব প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। 

দেশের জলাশয়গুলোতে এ মাছ ক্রমাগত বাড়ছে। যেকোনো পরিবেশে যেকোনো জায়গায় বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধি করার সক্ষমতা আছে মাছটির। ভালো পানিতে বাড়ছে, দূষিত পানিতেও দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে। ফলে মাছটি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

১৯৮৫ সালের “প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস রুলস”র বিধি সংশোধন করে নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত করা হবে মাছটিকে। মাছটিকে নিষিদ্ধ করা হলে কারও আপত্তি আছে কিনা তা দুই মাসের মধ্যে জানতে চেয়েছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়। আপত্তি নিষ্পত্তি সেরে নির্ধারিত সময়ের পর বিধি সংশোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে মন্ত্রণালয়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে যেখানে সাকার ফিশ পাওয়া যাবে, সেটা ধ্বংসের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এর আগে ২০০৮ সালে আফ্রিকার রাক্ষুসে মাস পিরানহা বাংলাদেশে চাষ করা, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধি, বাজারজাত করা এবং কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় আফ্রিকান মাগুরের আমদানি, উৎপাদন ও বিপণনের ওপর। 

সাকার ফিশ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মৎস্যচাষ) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, “বাংলাদেশে এ গ্রুপের তিন থেকে চার ধরনের প্রজাতি দেখা যায়। এরা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আর সাকার ফিশ আমরা খাইও না। কোনো দেশেই খাওয়ার রেকর্ড নেই।”

সাকার মাউথ ক্যাটফিশকে দেশি প্রজাতির মাছের জন্য “হুমকি” হিসেবে বর্ণনা করে খালেদ কনক বলেন, “এরা দেশীয় প্রজাতির মাছের রেনু খেয়ে ফেলে এবং জীববৈত্র্যের জন্যও হুমকি। তাই আমরা সাকার মাছ নিষিদ্ধের প্রস্তাব করেছি।”

ডোরা কাটা চেহারা আর টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে অ্যাকুরিয়ামের মাছ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে সাকার ফিশ। মাছের বর্জ্য ও অন্যান্য ময়লা খেয়ে পরিষ্কার করে ফেলে বলেও অনেকে এটিকে একোয়ারিয়ামে রাখেন। এদের খাদ্য মূলত জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ। পানি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে এ মাছ। ইংরেজি নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ, কোনো কোনো দেশে একে কমন প্লেকো বলে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, “বাংলাদেশে কোনো এক সময় হয়ত অ্যাকুরিয়ামে রাখার জন্যে এনেছিল। পরে ধীরে ধীরে মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে গেছে।”

ভয়ের কারণ কী

দেশের জলাশয়ে সাকার ফিশের দেখা মিলছে গত কয়েক বছর ধরে। শুরুতে পুকুর ও খালে এর দেখা মিললেও এখন বিভিন্ন নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে সাকার ফিশ। ঘেরে সাকার ফিশের উপস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা।

বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত নদীতেও দিব্যি বংশবিস্তার করছে সাকার ফিশ। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতেও এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে সাকার মাছ। 

মাছটির বংশবৃদ্ধির হার খুব বেশি। কম অক্সিজেনেও বাঁচতে পারে। দ্রুত এর সংখ্যা বাড়লে জলাশয়ে অন্য প্রজাতির মাছ হুমকিতে পড়বে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

তিনি বলেন, “শিকারী মাছ না হলেও সাকার ফিশ জলাশয়ের শ্যাওলা জাতীয় খাবার খেয়ে ফেলে। এরা সংখ্যায় বেড়ে গেলে তা বাস্তুসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অন্য মাছের খাবারের সংকট দেখা দিতে পারে। তখন সব প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।”

সাকার মাছ নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত করতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আপত্তির কথা জানানোর জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হয়। আগামী ২৯ নভেম্বরের পরে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধের তালিকায় যুক্ত হবে এটি।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুল হক জানান, সাকার মাছ নিষিদ্ধ হলে জেলা-উপজেলায় যেখানে এ মাছ পাওয়া যাবে, তা ধ্বংস করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

   

About

Popular Links

x