Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উপকূলে আশা দেখাচ্ছে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ

ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের ফলে ২০ থেকে ৪০% পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। চার মাসেই পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:২২ পিএম

সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে বেশ কয়েক বছর ধরে লোকসান গুণছেন খুলনার উপকূলীয় মৎস্য চাষিরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রোগ-বালাই ইত্যাদি কারণে উৎপাদনের আগে চিংড়ি মারা যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। এ অবস্থায় চাষিদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে ক্লাস্টার চাষ পদ্ধতি।

সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় খুলনার পাঁচ জেলায় ৭,৫০০ জন মৎস্য চাষিকে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে সরকারি অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯০টি ক্লাস্টারের (প্রতিটি ক্লাস্টারে ২৫টি ঘের) ২,২৫০ জন চাষিকে ১৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। মোট ৩০০টি ক্লাস্টার ক্রমান্বয়ে সরকারি অনুদানের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রকল্পটির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে খুলনা অঞ্চলের ২৫টি উপজেলায় এ প্রকল্প শুরু হয়। ২০১৮ সালে গ্রহণ করা এ প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। খুলনার আটটি, বাগেরহাটের নয়টি, সাতক্ষীরার সাতটি, যশোরের দুটি ও গোপালগঞ্জের তিনটি উপজেলায় প্রকল্পের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পদ্ধতিতে চাষের ফলে ২০ থেকে ৪০% পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। চার মাসেই পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা নতুন রাস্তা চিংড়ি চাষি ক্লাস্টারের সভাপতি শেখ মাহতাব হোসেন বলেন, “ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে সফল হয়েছি। মৎস্য অধিদপ্তরের পরামর্শে ঘের চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।”

কয়রা উপজেলার খড়িয়া চিংড়ি চাষি ক্লাস্টারের সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার বলেন, “২২ বছর ধরে চিংড়ি চাষ করছি। মাটি, পানির গুণাগুণ আগের মতো না থাকায় উৎপাদন ভালো হয় না। আমরা বেশ কয়েক বছর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খুব চিন্তিত ছিলাম। এ বছর মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় নতুন স্বপ্ন দেখছি।”

কয়রা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, “কয়রায় ১০টি ক্লাস্টার গঠন করা হয়। ক্লাস্টারভুক্ত চাষিদের নিজ উদ্যোগে ঘেরগুলোর গভীরতা বাড়াতে হচ্ছে।”

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, “বাগেরহাটে ৯৬টি ক্লাস্টার রয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করে ম্যাচিং গ্র্যান্টের জন্য ১৬টি আবেদন করে। আশা করছি উৎপাদন অনেক বাড়বে এবং এ পদ্ধতিতে চাষিরা লাভবান হবে।”

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার বলেন, “ক্লাস্টার পদ্ধতি চিংড়ি চাষের আধুনিক সংস্করণ। এই পদ্ধতির চাষে পুকুরের গভীরতা ঠিক করা, রোগ মুক্ত চিংড়ি পোনা সরবরাহ, পানির গুণগত মান ঠিক রাখা ও পোনার উপযুক্ত খাবার নিয়মিত প্রদান করা হয়।”

প্রকল্পের খুলনা বিভাগের উপ-প্রকল্প পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রি বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি একটি কার্যকরী উপায়। উপকূলের চাষিদের সংগঠিত করে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ করতে পারলে কৃষি অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।”

   

About

Popular Links

x