বাংলাদেশের ওপর যারা নিষেধাজ্ঞা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেছেন, “অবশ্যই আমরাও স্যাংশন দেব। প্রয়োজনে প্রস্তুতি নেব। অবশ্যই আমরা স্যাংশন দেব। তবে স্যাংশন দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের তাড়াহুড়ো নেই।”
বুধবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
স্যাংশন কাদের ওপর দেওয়া হবে এবং কি বিষয়ে স্যাংশন দেওয়া হবে- জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “যারা আমাদের ওপর স্যাংশন দেবে তাদের ওপর স্যাংশন দিতে পারি। পারি না? নিশ্চই পারি। প্রয়োজনে প্রস্তুতি নেব। তাড়াহুড়ো কিসের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাংশন হতে পারে। এগুলো সময় মতো জানবেন।”
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই কথা জানান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে বাংলাদেশের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিষেধাজ্ঞা দিলে দেবে। বাইরের দেশ থেকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হলে বাংলাদেশের জনগণও তাদের স্যাংশন দেবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না দেশটি।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছিলেন, তারা ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না। তবে এখন বলছেন, তলে তলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপোস করেছেন তারা।
মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির আন্দোলনে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে মার্কিন ভিসানীতি। সরকারের “কোণঠাসা অবস্থা” বোঝাতে বিএনপির নেতারা তাদের সমাবেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রায়ই তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করছেন, ভিসানীতি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্য লজ্জাজনক। এর জন্য দায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক ময়দানে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনমনেও এটি প্রভাব তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে বলে আলোচনা আছে। এই পরিস্থিতিতে এমন কথা বললেন মোমেন।
নির্বাচনকেন্দ্রীক এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভিসানীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না-হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



