Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাংবাদিকের ওপর হামলা: ডিক্যাব-বিএফইউজের নিন্দা

বিবাদমান সব রাজনৈতিক পক্ষকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩৩ পিএম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ-বিএনপি-আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪১ জন পুলিশ সদস্য, ১৭ জন সাংবাদিক এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “বিএনপি কর্মীদের হামলায় অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আহত পাঁচ সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল।”

বিএফইউজের নেতারা জানান, “শনিবার বিএনপির ডাকা সমাবেশে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালাতে গেলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন সাংবাদিকরা। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা। তারা হামলা করেন সাংবাদিকদের ওপর।”

অন্যদিকে ডিক্যাবের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস এক বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশে বেশ কিছু সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং তাদের বাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ ও পূর্ণ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেছে ডিক্যাব। একই সঙ্গে বিবাদমান সবপক্ষকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কর্মসূচি থাকায় সকাল থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাকরাইলে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনাস্থলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপর দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা নয়াপল্টনে পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এতে পণ্ড হয় বিএনপির সমাবেশ। এরপর পুরো নগরীতে থেমে থেমে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কাকরাইল চার্চের সামনে একটি পুলিশ বক্স পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি কর্মীরা। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হন ১৭ জন সংবাদকর্মী। আহত সংবাদকর্মীরা হলেন- ঢাকা ট্রিবিউনের ফটোসাংবাদিক মাহমুদ হোসেন অপু, বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক সালমান তারেক শাকিল, নিউ এইজের আহাম্মদ ফয়েজ, দৈনিক কালবেলার আবু সালেহ মুসা, প্রতিবেদক রাফসান জানি, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক, ব্রেকিংনিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার, দৈনিক ইনকিলাবের ফটোসাংবাদিক এফ এ মাসুম, দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তানভীর আহাম্মেদ, একুশে টিভির রিপোর্টার তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরা পারসন আরিফুর রহমান, দৈনিক দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি, ইত্তেফাকের সাংবাদিক শেখ নাছের ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মারুফ।

   

About

Popular Links

x