Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষ: বান্দরবানে আশ্রয় নিলেন মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৪১ পিএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি)  সংঘর্ষ চলছে। এরই মধ্যে বিজিপির ১৪ সশস্ত্র সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বান্দরবানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে জমা রাখা হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক সূত্র রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে শনিবার রাত থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। গুলি , মর্টার শেল, বিস্ফোরিত রকেট লাঞ্চারের খোল সীমান্তবর্তী ঘরবাড়িতে এসে পড়ছে। ফলে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।

বিরামহীন গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকার শত শত পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে রবিবার সকালে তুমব্রুতে প্রবীর ধর (৬৫) নামে এক বাংলাদেশি আহত হন। এছাড়া, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গোলায় বাইশফাঁড়ি সীমান্তের একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।

স্থানীয়দের অনেকেই আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ভয়ে অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না। সীমান্ত এলাকার কৃষকরা জমির ফসল তুলতেও ভয় পাচ্ছেন।

তুমব্রু বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি রুপলা ধর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, একদিকে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ, অন্যদিকে গুলি ও মর্টারশেল ঘরে এসে পড়ায় বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের পাশের এলাকার এক ঘরের চালায় বিস্ফোরিত রকেট লাঞ্চারের খোসা এসে পড়েছে। অনেকের বাড়ির উঠানে গুলিও এসে পড়েছে, একজনের হাতে গুলি লেগেছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, “রবিবার ভোর থেকে মিয়ানমারের সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির কারণে ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীদের বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্তের স্কুলগুলো আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, “সীমান্তের লোকজনকে সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নিরাপত্তা বাড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x