Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকায় কি কাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে?

ঢাকার ধানমন্ডি লেক, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগের মতো দেখা মিলছে না কাকের

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ০২:২৫ পিএম

ঢাকা কাকের শহর। গ্রামের মানুষের যেমন ঘুম ভাঙে মোরগের ডাকে, তেমনি ঢাকাবাসীর ঘুম ভাঙত কাকের ডাকে। শহরের আনাচে-কানাচে এই পাখির সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নানা কারণে এখন ঢাকায় কমছে কাকের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যের সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মোবাইল টাওয়ারের মতো প্রযুক্তিগত স্থাপনার আধিক্যের কারণে আগের মতো জন্মাচ্ছে না নগরপক্ষী চিরচেনা কাক।

ঢাকার ধানমন্ডি লেক, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগের মতো দেখা মিলছে না কাকের। যা আছে তা একেবারেই হাতেগোনা। তবে রাস্তার পাশে কিংবা ময়লার ভাগাড়ের আশপাশে কাকের সংখ্যা কিছুটা বেশি।

ঢাকায় কী পরিমাণ কাক ছিল বা কাক কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো গবেষণা হয়নি। তবে পাখিপ্রেমী এবং পরিবেশ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সবাই বলছেন, গত দশ বছরে কাকের সংখ্যা যে কমেছে তা খালি চোখেই বোঝা যায়।

রমনা পার্ক এলাকায় কাক এবং অন্যান্য পরিযায়ী পাখিদের নিয়মিত খাবার দেন সাইফুল ইসলাম নামে এক পাখিপ্রেমী। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “করোনাভাইরাসের সময় থেকে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আমি এখানে পাখিদের খাবার দেই। আগে যে পরিমাণ পাখি এখানে আসতো, এখন ধীরে ধীরে তার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।”

কাককে বলা হয় শহরের পাখি। গ্রামের চাইতে শহরেই বেশি কাক দেখা যায়/ফাইল ছবি/মেহেদি হাসান রনি/ঢাকা ট্রিবিউন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাক ও কুকুর সুরক্ষায় কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেভ দ্য নেচার”। সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

সংগঠনটির সংগঠক তাওহিদ বনী বলেন, “গত কয়েক বছরে কাকের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমেছে। আগে উদ্যান বা ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে প্রচুর কাক দেখা যেত, কিন্তু এখন দেখাই যায় না। যে হারে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে, এতে কাকের মতো পাখিরা বাসস্থান হারাচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার থাকলেও মূলত বাসস্থান সংকটের কারণে ঢাকায় কাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, “কাক কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ আমরা পেয়েছি। এগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি হলো- বাসস্থান ও খাদ্যের সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মোবাইল টাওয়ারের মতো প্রযুক্তিগত স্থাপনার আধিক্য। এসবের কারণে কাক প্রাকৃতিক পরিবেশে তার যে সাপোর্ট প্রয়োজন হয় তা ঠিকভাবে পায় না।”

কাক কমে যাওয়ার কারণে পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে অধ্যাপক আমিনুল বলেন, “বাস্তুসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাক। এই চক্রে অন্যান্য পাখি, পতঙ্গ, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী, বৃক্ষ ইত্যাদি সবই আছে। এই চক্র থেকে কোনো স্থান শূন্য হলে তার প্রভাব হবে ট্যানজিবল। বিশেষ করে ঢাকা শহরের মতো জনবহুল শহরে তা পরিবেশ বিপর্যয়ের পর্যায়ে চলে যাবে। একই কথা চড়ুই, প্রজাপতি বা বাদুড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”

About

Popular Links