দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি একদিন ছুটি বা বাড়ানোর ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন মিলিয়ে টানা চার দিন ছুটি উপভোগের সুযোগ এসেছে সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে। গ্রামের বাড়িতে পূজা উদযাপন এবং লম্বা সরকারি ছুটি কাটাতে বেড়েছে নগরবাসীদের ঢাকার বাইরে যাওয়ার চাপ।
এর ফলে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। তবে সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা দিয়েছে ঢাকার প্রবেশ মুখ ও বহির্গমন পথে।
তীব্র যানজটের ফলে ছুটির প্রথম দিনের একটি বড় সময় মানুষের কেটে যাচ্ছে সড়কপথে। এদিন সকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকা, খিলক্ষেত, কুড়িল ফ্লাইওভার, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ি, সায়েদবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী, মিরপুর, মহাখালীসহ ঢাকার সব প্রবেশ ও বর্হিগমন মুখে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
বেলা ১১টায় গুলিস্তান থেকে খুলনাগামী বাসে ওঠেন বেসরকারি চাকরিজাবী ইসরাফিল হোসেন, দুপুর ২টার দিকে তিনি ধোলাইরপাড় এলকায় রয়েছেন বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান। অর্থাৎ এই পথ যেতে তার ৪ ঘণ্টা লেগেছে।
অন্যদিকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসছেন যাত্রী সালেহা আমজাদ। সকাল ছয়টায় বাসটি ছেড়ে ১০টার দিকে পোস্তাগোলা ব্রিজে এসে পোঁছায়। এরপর শুরু হয় তীব্র যানজট। দুপুর ২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি হানিফ ফ্লাইওওভারের ওপর রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, দুপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে কয়েকটি গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার ফলে বিমানবন্দর-কুড়িল এলকার যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করে।
দুপুর ১২টায় বিমানবন্দর এলাকা থেকে বাসে উঠে ২টা পর্যন্ত সময়ে মাত্র খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছেছেন বলে জানান ইসরাত নাজনিন নামে এক শিক্ষার্থী।
রাজধানীজুড়ে এই তীব্র যানজটে যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও বাসের সহযোগীরাও পড়েছেন তীব্র ভোগান্তিতে। সময়মতো ঢাকার বাইরে থেকে বাসগুলো পৌঁছাতে না পারায় ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়তেও পারছে না। ফলে অনেককেই ৪-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজধানীর বাস স্টপেজগুলোতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।



