“আদিবাসী জুম্ম জাতির অস্তিত্ব নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে অধিকতর সামিল হই”, এই স্লোগান নিয়ে শুরু হয়েছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু ও বিহু উদযাপন কমিটির চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে উৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসব উপলক্ষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের হয়। এতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি পৌর চত্বর থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত শোভাযাত্রা আকারে অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, “দেশে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে অন্তত তিনটির সঙ্গে আমি সংলাপ করেছি। লিখিত ও মৌখিকভাবে বলেছি। আমাদের স্বকীয়তা ও বাংলাদেশের বহুত্ত্ববাদ প্রতিফলিত হবে বলে আশা করেছি। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিবেদন আমাদের নিরাশ করেছে।”
তিনি বলেন, “আমি জাতিসংঘ মহাসচিবকেও জানিয়েছি, ১৯৬৪ সাল থেকে পাকিস্তান আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘ট্রাইবাল এরিয়া’ কেড়ে নেওয়া হয়। আজ আমরা যদি স্বশাসনের দাবি করি বা সংবিধানে স্বীকৃতি চাই; সেটি দেশের বাইরের জন্য নয়, আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই, এখানেই আমাদের অধিকার চাই। কিন্তু সেই ন্যায্য অধিকার এখনও স্বীকৃতি পায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তথাপি আমরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় আছি।”
দেবাশীষ রায় আরও বলেন, “আশা রাখি সুন্দর একটি সংস্কার হয়ে আরও ভালো একটি সংবিধান পাবো এবং যথাযথ নির্বাচন হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার বলেন, “পার্বত্যাঞ্চলে বহু রক্ত ঝরেছে, আর নয়। আসুন, সবাই মিলেই শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটাই। এ দেশের আদিবাসীরা সমান অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রাখে।”
এদিন অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।
বিজু-সাংগ্রাই-বিসু-বিহু উদযাপন কমিটির উদ্যেগে আগামী ১০ থেকে ১২ বিভিন্ন খেলাধুলা, বলিখেলা ও কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।



