বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যাওয়ায় এক নারীকে (৩২) শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ এপ্রিল) ওই নারীকে লোহার শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন প্রেমিকের মা-ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। এতে তার দুই হাত, দুই পা, বাহু, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে ওই নারীর সঙ্গে খালাতো দেবর আবুল কালাম মীরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জেরে গত মার্চ মাসে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারী আবুল কালাম মীরকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তবে আবুল কালাম মীর রাজি হচ্ছিলেন না।
রবিবার সন্ধ্যায় ওই নারী কালামের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। ওই সময় কালাম বাড়িতে ছিল না। রাতে কালামের মা-ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা ওই নারীকে লোহার শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ছালাম সিকদার ও হাসনেহেনা বেগম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, “বিয়ের দাবিতে মীরের বাড়িতে অনশনে বসেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে গুরুতর করেছেন। আমাকে তিন ঘণ্টা নির্যাতন করেছেন।”
এ বিষয়ে জানতে আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মীরের বড় ভাই আবুল হোসেন মীর বলেন, “ওই নারী এবং তার স্বামী কালামের কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। ওই টাকা যাতে শোধ করতে না হয়, সেজন্য এই নাটক সাজিয়েছেন। আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো সম্পর্ক ছিল না।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



