Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাত্রলীগ সন্দেহে চবির সাবেক শিক্ষার্থীকে জুতার মালা পরিয়ে মারধর

পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক যুবককে মারধরের পর জুতার মালা গলায় পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। পহেলা বৈশাখের দিন ক্যাম্পাসে এলে তিনি মারধরের শিকার হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর তাকে মারধর করে একপর্যায়ে তাকে জুতার মালা পরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে চমেকে নেওয়া হয়।

মারধর ও জুতার মালা পরানোর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি শিকার করে চবি শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী জানান, ওই যুবক ছাত্রলীগের উপপক্ষ সিএফসির (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই উপপক্ষের নেতা-কর্মীরা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী। ছাত্রদল কর্মীদের মারধরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ওই যুবক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম উদ্দিন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘২০২২ সালের দিকে আমি গোপনে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এটি জানতে পেরে আমাকে শাহ আমানত হলের ৩০২ নম্বর কক্ষে নিয়ে তিনি মারধর ও নির্যাতন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকে মারধরের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। তাই তাকে জুতার মালা পরিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।’’

মারধরের সঙ্গে ছাত্রদল কর্মীদের যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে চবির ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “ছাত্রদল নেতাকর্মীসহ অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। তাই ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন।”

পুলিশে সোপর্দ করার সময় মারধরের শিকার ওই যুবক বলেন, “আমি শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলাম। তবে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে মারধর করা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবু তৈয়ব সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “চিকিৎসা নেওয়া ওই শিক্ষার্থীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, “ওই যুবককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে প্রশাসনকে বিপাকে পড়তে হয়।”

   

About

Popular Links

x