খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফোনালাপকালে শিক্ষা উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান। তবে ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা ওই শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা কুয়েটের আন্দোলন ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন। উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে সরকার সচেতন রয়েছে। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অতি দ্রুত খুলনা যাবে। কুয়েট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চলতি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিক্ষার্থী জানান, উপদেষ্টাকে তারা বলেছেন ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবে।
এদিকে কুয়েট শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ২৮ ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে রাত পৌনে ৮টায়। ইতোমধ্যে দেখা যায়, ৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে ২ জন কুয়েটের মেকাট্রনিক্স ২৩ এবং সিএসই ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় ওই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারের কর্মকর্তারা তাদের চিকিৎসা দেন। অসুস্থ হয়ে পড়া বাকি ২ শিক্ষার্থীকে তাদের অবিভাবক বাড়িতে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, কুয়েটের শিক্ষার্থী আন্দোলন ইস্যুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইউজিসি থেকে একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কুয়েটে যাবেন। তারপর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অনশনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “কুয়েট ভিসিকে অপসারণ করতে হবে। অথবা তাকে নিজ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। খুলনায় যে গরম এখানে প্রায় ৪৫ ডিগ্রির মতো তাপ অনুভব হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা কতক্ষণ বেঁচে থাকব জানিনা।”
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন কুয়েটে তদন্ত কমিটি আসছে। আমরা এই তদন্ত কমিটির নিন্দা জানিয়েছি। ভিসিকে অপসারণ না করে তদন্ত কমিটি কেন আসবে।”
এদিকে সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক অনশন ভাঙার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন।
এ সময় তারা জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টাও করেন। তবে শিক্ষার্থীরা সাড়া দেননি।



অনশন প্রসঙ্গে কুয়েট ভিসি: বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিপক্ষে