চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমাবেশে একাত্মতা জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালটির বিভিন্ন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ মে) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ কাকরাইল মোড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ চার দফা দাবি যৌক্তিক। অন্তর্বর্তী সরকারের দ্রুত এ চার দফা দাবি মেনে নেওয়া উচিত। দাবিগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়নের ঘোষণা যতক্ষণ না দেওয়া হবে, ততক্ষণ এ আন্দোলন চলবে।
সাবেক শিক্ষার্থী মেহদি বলেন, “এদেশে রক্ত দিয়েছে আমার ছাত্র ভাইয়েরা। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং সাবেক যারা আছেন সবাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামাব না। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যেভাবে এ রাষ্ট্র থেকে গিয়েছেন জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করে, দাবি আদায় না হলে যারাই ক্ষমতায় থাকবেন তাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।”
আরেক শিক্ষার্থী আকরাম বলেন, “আমরা যখন ছিলাম তখন থেকেই বৈষম্যের বেড়াজালে বন্দি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখন আর এই বৈষম্য চলবে না। আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি তো কী হয়েছে। আমাদের ছোট ভাই-বোনেরা যেন সকল অধিকার পায় তার জন্যই আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাবো না।”
প্রসঙ্গত, চার দফা দাবি নিয়ে গত বুধবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার জন্য যাওয়ার সময় কাকরাইল মোড়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং জানান যে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না করে তারা ফিরে যাবেন না। পরে সেদিন রাতে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তাদের সঙ্গে কথা বলতে এলে, তার দিকে বোতল ছুঁড়ে মারাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
পরে, গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা বিকেলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় “শাটডাউন” ঘোষণা দেন। রাতে আলোচনার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, শিক্ষা উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাসায় দীর্ঘসময় বৈঠক করলেও কোনো সমাধান আসেনি।
পরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন জানান, শুক্রবার জুমার পর তারা গণঅনশনে বসবেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো:
আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে; শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী পুলিশদের বিচারের আওতায় নিতে হবে।



সকালে সমাবেশ, জুমার পর গণ-অনশনের ঘোষণা জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের