সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অনিবার্য কারণবশত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এর আগে, গত ৮ জুন ঈদের ছুটিতে কাছারিবাড়িতে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থীর সঙ্গে কর্মচারীদের মারামারির ঘটনার পর মঙ্গলবার (১০ জুন) কিছু বিক্ষুব্ধ জনতা কাছারিবাড়ির অফিস ও মিলনায়তনে হামলাও ও ভাঙচুর চালায়। তারপর থেকেই সেখানে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন পৌর শহরের রুপপুর মহল্লার বাসিন্দ মো. শাহনেওয়াজ। ৮ জুন বিকেলে স্ত্রী ও ভাতিজাকে নিয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ঘুরতে যান তিনি। এ সময় দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নিয়ে টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য টাকা নিয়েও টোকেন দেওয়া হয়নি। পরে কাছারিবাড়ি দেখা শেষে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের টিকিট দেখতে চান প্রধান ফটকে দায়িত্বরত কর্মচারী। কিন্তু মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা টোকেন দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় শাহনেওয়াজের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান ওই কর্মচারী। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে কাস্টোডিয়ানসহ কাছারিবাড়ির কর্মীরা গিয়ে কিল–ঘুষি মারতে মারতে শাহনেওয়াজকে প্রধান ফটকের সামনে থেকে কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে সেখানে আটকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। পরে খবর পেয়ে শাহনেওয়াজের অভিভাবক ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় শাহনেওয়াজ কাস্টোডিয়ানসহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় ওই দিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এই হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে “শাহজাদপুরের সর্বস্তরের জনগণ”–এর ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহজাদপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ানের কার্যালয়সহ মিলনায়তনের দরজার কাচ ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুশফিকুর রহমান ও থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, এ ঘটনায় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক তদন্তে আসা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) শেখ কামাল হোসেন।
তিনি জানান, হামলার ঘটনায় রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।



