দেশে জনপ্রতি গড় মাসিক আয় এখন ৭,৬১৪ টাকা, যা ২০১৬ সালে ছিল ৩,৯৪০ টাকা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাসিক গড় আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২ সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এ বছরের এপ্রিল মাসে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের আয় অনেক বেশি। শহরের একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ১০,৯৫১ টাকা। আর গ্রামের মানুষের আয় অর্ধেকের কাছাকাছি, ৬,০৯১ টাকা।
এতে পরিবারের মধ্যে বৈচিত্র্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যায়, বেশিরভাগ পরিবারের সব সদস্য উপার্জন করেন না। তবে একটি পরিবারে এক বা একাধিক উপার্জনকারী থাকতে পারেন। এসব উপার্জনকারীর গড় আয়ের হিসাবও জরিপে দেওয়া হয়েছে। উপার্জনকারীদের গড় আয় ২৫,৭০৭ টাকা। আট বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১৩,৬৪৬ টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে একটি খানা বা পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ৪.২৬। পরিবারের মাসিক আয় ৩২,৪২২ টাকা। মাসে খরচ হয় গড়ে সাড়ে ৩১,০০০ টাকা। খাবারের পেছনে প্রতি মাসে গড়ে ১৪,০০৩ টাকা খরচ করে একটি পরিবার।
এদিকে ধনীদের কাছে সম্পদ আরও পুঞ্জীভূত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে।
দেখা গেছে, দেশের মোট আয়ের প্রায় ৪১% করেন দেশের সবচেয়ে ধনী ১০% মানুষ। ২০১৬ সালে আয়ের এই হার ছিল ৩৯। তবে সবচেয়ে গরিব ১০% মানুষের আয়ের অংশীদারত্ব কিছুটা বেড়েছে। এখন দেশের মোট আয়ের ১.৩১% তাদের হাতে। আট বছর আগে এই হার ছিল ১.০২।
বিএসের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে গিনি সহগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯৯ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮২ পয়েন্ট। সাধারণত ০.৫০০ হলেই একটি দেশকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এতে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ দারিদ্র্যের হার ২৬.৯%, যেখানে খুলনা বিভাগ সর্বনিম্ন দারিদ্র্যের হার ১৪.৮%।
এছাড়াও পরিসংখ্যানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা (১৭.৯%), চট্টগ্রাম (১৫.৮%), রাজশাহী (১৬.৭%), সিলেট (১৭.৪%), রংপুর (২৪.৮%), এবং ময়মনসিংহ (২৪.২%)।



