Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নির্বাচিত হলে কী করবেন জানালেন মাহি

মাহি নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম

১৭ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা শারমিন আক্তার নিপা (মাহিয়া মাহি)।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) তানোর উপজেলার মুন্ডমালা বাজারে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

মাহিয়া মাহির ১৭ দফা ইশতেহারে রয়েছে শ্রেণি-পেশা, ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সকলের বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, “গোদাগাড়ী-তানোরেই রাজশাহী অঞ্চলের মধ্যে প্রথম বৃহৎ আকারে পোশাক শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।”

ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি বলেন, “গোদাগাড়ী-তানোর কৃষি প্রধান একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলের মানুষ প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও সঠিক সংরক্ষণের অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমি নির্বাচিত হলে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে এবং সবজি ও ফল সংরক্ষণের হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানিমুখী করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি যান্ত্রিকিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এর সুবিধা কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।”

মাহি বলেন, “আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করা হবে। চরাঞ্চলসহ ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। গোদাগাড়ী-তানোরে শতভাগ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গোদাগাড়ী-তানোরে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান মাহি। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারসহ তরুণ ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।”

প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ যোগাযোগ অবকাঠামো সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণের কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেন বলেও জানান মাহি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহি নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন।

মাহি বলেন, “৫ জানুয়ারির পর থেকে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, জমিদারের (নৌকার প্রার্থী) অনেক টাকা। জমিদার সাহেবের যত টাকা, আমাদের সবার মিলে হয়তো এত টাকা হবে না। এগুলো তো আসলে বিভিন্ন উপায়ে অর্জন করা টাকা। এখন জেতার জন্য এই টাকা দিয়ে জনগণকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। জনগণকে আমি বলে দিয়েছি, আপনারা টাকা পেলে টাকাটা নেবেন। টাকাটা নিয়ে ট্রাক মার্কাতে ভোটটা দেবেন।”

মাহি গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচারণায় বক্তব্যে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে কখনো “জমিদার সাহেব”, কখনো “চৌধুরী সাহেব” সম্বোধন করে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এই আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়া আরও ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাহি বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে সবাইকে নিয়ে আসা। আমার নিজের এক আত্মীয়, ওনাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেছেন, তোমাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। জনগণ বলছে, উনি নাকি অনেক ঝামেলা করতে পারেন। এলাকাগুলো থেকে অনেক সংবাদ পাচ্ছি, তারা ভোটারদের ভেতর একটা ভীতি সঞ্চার করতে চাচ্ছেন। তারা বলে দিচ্ছেন, তোমাদের ভোট দিতে যাওয়া লাগবে না। মানে তাদের নেতাকর্মীরা শুধু ভোট দিলেই হবে। জনগণ যাতে ভোট দিতে না যেতে পারেন, এ জন্য একটা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি যেহেতু মাঠে নেমেছি, হয় জিতব নাহয় হারব, মাঠ থেকে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।”

মাহি বলেন, “আপনারা রাজশাহী থেকে আসার সময় আগে দেখবেন, তানোর থেকে মুন্ডুমালা আসার পথে আমার প্রচুর ফেস্টুন ছিল। এখন দেখবেন, সব ফেস্টুন খুলে জমিদার সাহেবের ফেস্টুন ওখানে লাগানো হয়েছে। বিপুল পরিমাণে পোস্টার, ফেস্টুন তারা খুলে ফেলেছেন। সরনজাই ইউনিয়নে মুন্ডুমালা থেকে মাইক ভাড়া করেছেন, তার আধা ঘণ্টা পর মাইকওয়ালা বলেন যে ‘আমাকে মেরে ফেলবে যদি আমি মাইকিং করি।’ এই রকম বহু ঘটনা আছে।”

মাহি আরও অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোস্টারিং চলছে। সেখানে পোস্টারিং করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু ছেলেপেলে, তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকে, ছুরি দেখিয়ে তারা বলে, এই জায়গায় পোস্টার লাগালে খবর আছে। যেহেতু আমি ভয় পাই না, আমার ছেলেপেলের ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সমস্যাটা হয়েছে, আমি জনগণের সঙ্গে বেশি বেশি যুক্ত হব, নাকি এই দিকে নজর দেব।”

সাংবাদিকেরা মাহিকে প্রশ্ন করেন, অনেকেই বলছে নির্বাচনের পর আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে মাহি বলেন, “ভবিষ্যদ্বাণী কে করে ফেলল, কেন করল আমি বুঝলাম না। আমি সিনেমা থেকে মোটামুটি অনেক দূরে চলে এসেছি আমার এই রাজনীতির কারণে। আমি জনগণের কাছাকাছি থাকতে চাই। এখানে যারা প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, তারা সবাই ঢাকায় যান। চার-পাঁচ দিন করে থাকেন। যেহেতু ঢাকায় আমার কর্মক্ষেত্র, সপ্তাহে হয়তোবা দু-তিন দিন আমাকে যেতেই হবে। কিন্তু একটা বড় সময় আমি এখানেই থাকব। জনগণের কাছেই থাকব। এই মুন্ডুমালার উত্তর পাড়ায় আমার বাড়ি।”

   

About

Popular Links

x