সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চোখের পাতায় ঘুম নেমে আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম হলেও স্ট্রেস যেন কমে আর না। অত্যধিক মানসিক চাপে শরীরও ক্লান্ত থাকে। তখন শুধু ঘুম নয়, চাই জড়িয়ে ধরার জন্য একজন মানুষ। দিনের শুরুতে হোক বা দিনের শেষে, মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমাতে “কাডলিং” দারুণ কাজ দেয়। সে আপনার সঙ্গী, মা-বাবা, বন্ধু, এমনকী পোষ্যপ্রাণীও হতে পারে।
যখন আপনি প্রিয় মানুষের সঙ্গে “কাডলিং” করেন বা আপনাকে কেউ জড়িয়ে ধরে তখন উভয় ব্যক্তির দেহেই অক্সিটোসিন হরমোন নির্গত হয়। একে “লাভ হরমোন” বা “হ্যাপি হরমোন”ও বলে। এই হরমোনই মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। সুতরাং, কাউকে জড়িয়ে ধরলে কী, কী উপকার মেলে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
মানসিক চাপ কমে
“কাডলিং” অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি মেডিসিন হিসেবে কাজ করে। অক্সিটোসিন হরমোন মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। মূলত এটি দেহে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমায়। তাই হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরলে আপনি হাল্কা বোধ করবেন। মনকে শান্ত করতে এই টোটকা জাদুর মতো কাজ করে।
ব্যথা-যন্ত্রণা কমে
শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এটা সত্যি যে, জড়িয়ে ধরলে শারীরিক ব্যথা-যন্ত্রণা কমে। হয়ত পুরোপুরি ব্যথা বা শারীরিক কষ্ট কমে যায় না। কিন্তু অল্পবিস্তর স্বস্তি মেলে। কাডলিংয়ের মাধ্যমে শরীরে যে অক্সিটোসিন হরমোন নির্গত হয়, তা শরীরে স্বস্তি ও আরাম প্রদান করে। যদি কাছের কোনো মানুষ কোনো শারীরিক সমস্যার জন্য কষ্ট পান বা ক্রনিক অসুখে ভোগেন, তাকে রোজ একবার করে জড়িয়ে ধরুন। তিনি সুস্থ বোধ করবেন।
ঘুম ভালো হয়
ক্লান্ত শরীরে ঘুম তাড়াতাড়ি চলে আসে। কিন্তু শান্তিতে বা স্ট্রেসমুক্ত ভাবে ঘুমোতে চাইলে প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোন। কাছের মানুষের স্পর্শ দারুণ কাজ করে। ঘুম গাঢ় হয় এবং অনিদ্রার সমস্যা কমে।
সম্পর্কের ভিত মজবুত হয়
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে যদি মাকে জড়িয়ে ধরেন, স্ট্রেস কমে। তা ছাড়া মা হোক বা সঙ্গী, কাডলিং যে কোনো সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে তোলে। আপনি যদি কাউকে জড়িয়ে ধরেন, এর অর্থ আপনি তাকে ভালোবাসেন, সেই মানুষটা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি তার যত্ন নিতে চান। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই সম্পর্ককে সুন্দর করে তোলে।



