ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে দৈনিক তেল সরবরাহ ও উৎপাদন ক্ষমতা অন্তত ১০ লক্ষ ব্যারেল কমেছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বারবার হামলা হয়েছে। এসব স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও তেল উৎপাদন কেন্দ্র, পাইপলাইন, রপ্তানি টার্মিনাল, তেলের ট্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো। এসব তথ্যটি প্রকাশ করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো “ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন”। এটি শুধু সৌদি আরবের অর্থনীতির জন্য নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একাধিকবার হামলার কারণে পাইপলাইনে দৈনিক তেল পরিবহনে ক্ষমতা কমেছে ৭ লক্ষ ব্যারেল এবং মানিফা উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন তেলের উৎপাদন কমেছে ৩ লক্ষ ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধানপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নির্ধারণ হয় ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এখন তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের উপর নির্ভরশীল অনেক দেশ। এ পরিস্থিতিতে দেশটি তাদের জ্বালানি সরবরাহ ক্ষমতা কমার তথ্য প্রকাশ করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করে। সেই হিসাবে এই পাইপলাইনেই দেশটির সক্ষমতা কমেছে ১০ শতাংশ।



