Sunday, November 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সরকার গঠন করছে গাদি, ইসরায়েলের নীতিতে পরিবর্তন আসবে?

বিশ্লেষকদের মতে, গাদি আইজেনকোটের জন্য নতুন সরকার গঠন অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হবে

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটির নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ‘য়াশার’ পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ তাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে তিনি জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সুযোগ দেওয়া হবে, নতুবা দেশটিতে আবারও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাদি আইজেনকোটের জন্য নতুন সরকার গঠন অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হবে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হলে তাকে হয় অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে (যারা তরুণদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি চায়), অথবা ইসরায়েলি-আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে। তবে কট্টর ধর্মীয় দলগুলোকে এড়িয়ে আরব দলগুলোর ওপর তিনি কতটুকু নির্ভর করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে।

পাশাপাশি, গাজা ও ইরানে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতি ও সাধারণ জনগণের কাছে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সহায়তা হ্রাসের যে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা সফলভাবে সামলানো নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হবে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চাতুরী ও বিলাসী জীবনযাত্রার বিপরীতে সাধারণ ইসরায়েলিদের কাছে আইজেনকোট একজন নীতিবান ও পরিচ্ছন্ন সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালে সংঘটিত যুদ্ধের সময় গাজায় তার নিজের এক ছেলে ও দুই ভাগ্নে নিহত হন, যা সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও সমবেদনার পাত্র করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলি নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তিনি বিতর্কিত ‘দাহিয়ে ডকট্রিন’-এর স্থপতি, যে সামরিক নীতি বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সমর্থন করে। তার সেনাপ্রধান থাকাকালীন সময়েও গাজা ও পশ্চিম তীরে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিদায় ঘটলেও ইসরাইলের কঠোর দমনমূলক নীতি অপরিবর্তিত থাকার আশঙ্কাই বেশি।

   

About

Popular Links

x