উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও ডুবোযানে আটলান্টিক সাগরের তলায় গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে ডুবোযান টাইটানে করে আটলান্টিক সাগরের তলায় গিয়ে ওই ব্যবসায়ীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এরপরেই তার স্ত্রী ওই বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে জানান।
শাহজাদা দাউদ এনগ্রো কর্পোরেশন লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। তার সাথে ডুবোজাহাজে ছিলেন তার ছেলে সুলাইমান দাউদও।
দাউদের স্ত্রী ক্রিস্টিন দাউদ জানান, ২০১৯ সালে একটি ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন পাকিস্তানি এই ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী।
একটি ব্লগ পোস্টে বিমান দুর্ঘটনাটি শেয়ার করেছেন দাউদের স্ত্রী, ক্রিস্টিন। তিনি লিখেন, একটি ফ্লাইট তার জীবন এবং ক্যারিয়ারের পথকে একজন প্রকৌশলী হওয়া থেকে একজন মনোবিজ্ঞানী এবং জীবন প্রশিক্ষক হতে পরিবর্তন করেছে।
ক্রিস্টিন ফ্লাইটটির বর্ণনা দিয়ে বলেন, “শুরুটি ছিল অপ্রীতিকর এবং বেশিরভাগ ক্রুরা আমাদের আসন্ন অবতরণ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করার জন্য সিটবেল্ট বাধতে সতর্ক করছিলো। এরমধ্যেই এক ঝাকি দিয়ে বিমানটি তিন থেকে পাঁচ মিটারের বেশি নেমে যায়। পুরো কেবিনের সবাই একযোগে কান্না করছিলো।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অগ্নিপরীক্ষা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে শাহজাদা, একজন দুঃসাহসিক মানুষ পুরো ফ্লাইটের সময় নিজের মৃত্যুর কথা ভাবছিলেন।”
ক্রিস্টিন তার অ্যাকাউন্টে আরও লিখেন, “উড়োজাহাজ যখন ধীরে ধীরে থেমে এল তখন বুঝলাম যে আমরা বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু আমি তখনও নড়তে পারিনি। আমি তখনও নিথর ছিলাম। তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার জীবন বদলে গেছে এবং আর কখনো আগের মতো হবে না।”
রবিবার আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সাবমেরিন টাইটান। সেই সাবমেরিনের পাঁচজন অভিযাত্রীর মধ্যে দুজন ছিলেন এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান দাউদ। বৃহস্পতিবার নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার কথা জানায় মার্কিন কোস্ট গার্ড। এমনকি অভিযাত্রীদের কেউই বেঁচে নেই বলেও জানায় তারা।



