Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ত্রাস’ কাতাইব হিজবুল্লাহ কারা?

শিয়া মতাদর্শী এই গোষ্ঠীটি ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননের মধ্যে সীমানাকে পশ্চিমাদের কূটবুদ্ধির ফসল বলে মনে করে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক পদক্ষেপও নিচ্ছে। তাদের হামলায় ইরানপন্থী অনেকে প্রাণ হারাচ্ছে। তবে ওই অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও দিচ্ছে কড়া জবাব। গত সপ্তাহেই জর্ডানে ইরান-সমর্থিত ইরাকি যোদ্ধারা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এতে নিহত হন তিন মার্কিন সেনা ও আহত হন ৪০।

পেন্টাগন এই হামলার জন্য সম্প্রতি দায়ী করেছে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া কাতাইব হিজবুল্লাহ নামে এক সংগঠনকে। ফলে আলোচনায় উঠে এসেছে এই সংগঠন। কারা এই কাতাইব হিজবুল্লাহ? তাদের শক্তি সামর্থ্যই বা কতটা, যে নিরাপত্তাবলয় ভেঙ্গে মার্কিনিদের ডেরায় ঢুকতে সক্ষম হয়েছে তারা?

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সংগঠনের নানা অজানা দিক-

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর ইরানের সমর্থনে গড়ে ওঠা বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি কাতাইব হিজবুল্লাহ।

ইসলামি মতাদর্শে বিশ্বাসী এমন ইরাকি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে তারা সবচেয়ে শক্তিশালী। কট্টরপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই জোটের দাবি, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা মার্কিন বাহিনীর ওপর দেড় শতাধিক হামলা চালিয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০০-এর দশকে স্নাইপার, রকেট, মর্টার আক্রমণ ও সড়কের পাশে বোমা পুঁতে রেখে সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে মারাত্মক আক্রমণের জন্য দ্রুত খ্যাতি অর্জন করে তারা। তবে এসব হামলায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা মুখে কুলুপ এঁটে থাকে।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

২০২০ সালে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহত হন ইরাক-ইরানের দ্বৈত নাগরিক আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাতাইবের শীর্ষনেতা ছিলেন।

শিয়া মতাদর্শী এই গোষ্ঠীটি ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননের মধ্যে সীমানাকে পশ্চিমাদের কূটবুদ্ধির ফসল বলে মনে করে। তারা মনে করে ইরাকে মার্কিন সেনারা বিদেশি দখলদার। তাই মার্কিনীদের তাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে তারা। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সমমনা সশস্ত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সুন্নি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুগপৎ লড়াইয়ে শামিল হয় তারা।

ইরাকি কর্মকর্তা ও কাতাইব সদস্যরা বলছেন, কোনো ঘোষিত নেতৃত্ব কাঠামো ছাড়াই কাতাইব হিজবুল্লাহর হাজার হাজার যোদ্ধা, ড্রোন, রকেট ও স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অস্ত্রাগার রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে কাতাইব হিজবুল্লাহর অবস্থান, ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র গুদামে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি বাগদাদের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জুরফ আল-সাখারে কাতাইব হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে মার্কিনীরা।

কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বেশ কয়েকটি ব্যাটালিয়ন গঠন করে। সশস্ত্র দলগুলোর এই সংগঠন মূলত ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

কাতাইব হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের অনেকেই রাষ্ট্রীয় বেতন পান। যাদের মধ্যে অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজরে “সন্ত্রাসী”। তারা পিএমএফের জ্যেষ্ঠ্য পদে অধিষ্ঠিত।

সরকারিভাবে এটি পিএমএফের অংশ হিসেবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই গোষ্ঠীটি প্রায়ই চেইন অব কমান্ডের বাইরে কাজ করে। প্রায়ই মার্কিন বাহিনীর ওপর আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সরকারের বিবৃতি অস্বীকার ও চ্যালেঞ্জ করে থাকে তারা।

২০২১ সালের প্রথমবারের মতো একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠে নেমে ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে জয় পায়।

   

About

Popular Links

x