Friday, June 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিচ্ছেদ বেদনা ভুলে যেভাবে নিজেকে সামলাবেন

বিচ্ছেদের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হলেও জীবন থেমে থাকে না। শত প্রতিকূলতার পরও নিজেকে সামলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ০৩:১৮ পিএম

নিতান্ত অনিচ্ছায় হলেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, অপর পক্ষের ইচ্ছা কিংবা অন্য কোনো কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ হয়। সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও বিচ্ছেদের পর একজনের কাছে সম্বল বলতে থাকে বিভ্রান্তি, এলোমেলো অগোছালো কিছু মুহূর্ত আর একগুচ্ছ স্মৃতি।

বিচ্ছেদ যে কারো জন্যই বেদনাদায়ক এক অভিজ্ঞতা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিচ্ছেদের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠাও কঠিন। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। তাই শত প্রতিকূলতার পরও নিজেকে সামলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

বিচ্ছেদের পরপরই রাতারাতি নিজেকে স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব না। বরং অপর পাশের মানুষটির সবকিছু ধীরে ধীরে জীবন থেকে মুছে ফেলাই শ্রেয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকো থেরাপিস্ট তানজিলা হকের পরামর্শ অনুযায়ী, জীবনের কোনো পর্যায়ে বিচ্ছেদ হলে পরবর্তী কঠিন সময়টাকে তিনটি ধাপে ভাগ করে নিজেকে সামলে নেওয়া সম্ভব।

বিচ্ছেদ-সম্পর্ক-প্রেম-ঝগড়া-বিষণ্নতা-প্রতীকী ছবি

বিচ্ছেদ পরবর্তী বিরহের বেদনা

কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে গেলেও প্রথম কয়েক সপ্তাহ আপনি সর্বত্র তার অস্তিত্ব অনুভব করবেন। গান, মুভি, কফি, টেক্সট মেসেজ, পোশাক রেস্টুরেন্ট বা কফিশপ- মোট কথা সম্পর্কে আপনাদের কাটানো সুন্দর সময়ের সাক্ষী সবকিছুতেই আপনি তার উপস্থিতি টের পাবেন।

এসব অনুভূতি যে আপনার ভেতরের কষ্টকে নিশ্চিতভাবেই বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে। এই অবস্থায় ভেতরে কষ্ট চেপে না রেখে যতবার ইচ্ছা কাঁদুন। দমকা ঝোড়ো হাওয়ার মতো এসব অনুভূতি বইতে দিতে হবে। এতে মনের বেদনার ভার অনেকটাই হালকা হবে।

সম্ভব হলে কাছের বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবারের কারো সঙ্গে নিজের দুঃখ ভাগাভাগি করুন। অন্যথায় মনোবিদের শরণাপন্ন হোন। প্রথমদিকে যন্ত্রণার আগুনে পুড়লেও একসময় এসব দুঃখ কেটে যাবে।

বিচ্ছেদ-সম্পর্ক-প্রেম-ঝগড়া-বিষণ্নতা

অতীতের শিক্ষা নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলা

ফরাসি দার্শনিক হেনরি বার্গসন বলেছেন, অস্তিত্ব মানেই পরিবর্তন, পরিবর্তন অর্থ পরিপক্ব হওয়া আর পরিপক্ব হওয়া মানে নিজেকে প্রতিনিয়ত তৈরি করা।

নিজেকে আপনি যতই বোঝানো চেষ্টা করুন না কেন যে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিল বা সম্পর্কের গতি ভালোই ছিল- ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। তেতো বাস্তবতা হলো একটা সময়ে এসে বন্ধনের সুতো আর মোটেও টানটান ছিল না।

কঠিন এই সত্যিকে স্বীকার করে এগিয়ে চলা ছাড়া আপনার সামনে আর অন্য কোনো উপায় নেই। জীবনের এই পরিবর্তন আপনাকে পরিপক্ব করে তুলবে, মনোবল শক্ত করবে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে।

কিন্তু এই অবস্থায় কখনোই নিজেকে দোষ দেওয়া যাবে না। আরেকবা চেষ্টা করা যেত, আরেকটু সময় নেওয়া যেত কিংবা আমি যদি আরেকটু আবেদন নিয়ে তার কাছে গেলে সব আগের মতো হয়ে যেত- এসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে শিখতে হবে।

আপনি এমন একজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, যিনি আপনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। আপনার অজান্তেই হয়তো দুজনের মাঝে এমন কোনো দেয়াল গড়ে উঠেছিল, যাতে দুজনের পথ দুদিকে বেঁকে গিয়েছে। এমন অনিশ্চিত একটি মানুষের স্মৃতি বয়ে বেড়ানোর চেয়ে নিজেকে মুক্ত করতে শিখে নেওয়াই শ্রেয়।

বিচ্ছেদের পর অবশ্যই অপর পাশের মানুষটিকে আপনার মনে পড়বে। কিন্তু প্রথম দিকের কষ্টের তীব্র অনুভূতির চেয়ে সেটা একটু হলেও কমে আসবে। ইতোমধ্যে আপনি সেই অনুভূতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে শিখে যাবেন।

পুরোনো স্মৃতি তাড়া করলেও আগের সেই দমবন্ধ পরিস্থিতি এখন আর নেই। কিন্তু আপনার মন এটা বুঝতে শিখে যাবে যে সেই স্মৃতিগুলো বহন করার জন্য খুবই ভারী ছিল। একটা সময়ে সেই তিক্ত স্বাদ আর অনুভব হবে না।

বিচ্ছেদ-সম্পর্ক-প্রেম-ঝগড়া-বিষণ্নতা

বিচ্ছেদের বেদনার ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে সামনে এগোনো

বিচ্ছেদের পর অপর পাশের মানুষটির অস্তিত্ব আর আপনার জীবনে নেই। কিন্তু দিনশেষে হারানোর চেয়ে আপনার প্রাপ্তি অনেক বেশি। সময় এসেছে আবারও ভাঙা মনের টুকরোগুলোকে একত্র করে জোড়া লাগানোর।

যেসব দিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে এত দিন অবধি একেবারেই চোখে পড়েনি, সেগুলোর দিকে মনোযোগ দিন। দেহ ও হৃদয় অভিন্ন না হওয়ায় কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। নিজের প্রত্যাশা এবং লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে আপনার সামনে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া বিকল্প আর কিছু নেই।

লক্ষ্য অর্জনে নিজেকে প্রস্তুত করতে কাজের দিকে মনোনিবেশ করুন। নিজের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনাগুলো নিয়ে থাকুন। নিয়মিত শরীরচর্চা, সূর্যের আলোয় নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য রাখা আর পর্যাপ্ত ঘুম আপনাকে সজীব করে তোলার পাশাপাশি প্রতিটি দিনকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

নিজের ছোটো ছোট শখ ও আগ্রহের বিষযগুলোকে গুরুত্ব দিন। প্রকৃতির মাঝে প্রশান্তি খুঁজে পেলে দূরে কোথাও ঘুরে আসুন। সেটি সম্ভব না হলে নিজের ঘরে কিছু গাছের সমারোহ অথবা ঘরের সাজসজ্জার পরিবর্তন আপনার মনকে ধীরে ধীরে নতুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন অনুধাবনগুলোকে নিয়ে ভাবুন।

নিজেকে ভেঙে আবার নতুন করে গড়ার এই প্রক্রিয়াকে জাপানিজ ভাষায় বলা হয় কিন্টসুগি। যেখানে ভেঙে ফেলা পটারির টুকরাগুলোকে স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে আবারও জুড়ে দেওয়া হয়। পরিশেষে সেই স্বর্ণের প্রলেপের সিরামিকের পটারি হয়ে ওঠে আরো দৃষ্টিনন্দন, সুসজ্জিত ও আকর্ষণীয়। নিজেকে ভাঙাগড়ার মাঝে জীবনের নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়ার আনন্দ আপনার মনে একদিন অবশ্যই নিরাময়ের সুবাতাস বইয়ে দেবে।

   

About

Popular Links

x