সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত সময় হিসেবে অক্টোবরকে বেছে নিয়েছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকরা এ মাসের প্রথম সপ্তাহে বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তাদের এক দফার সঙ্গে এখন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টিও জোরালোভাবে যুক্ত হচ্ছে।
গত দেড় মাস ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের বরাতে বিএনপি নেতারা বলছেন, “শিগগিরই খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া দরকার।” বিদেশে নিতে সরকারের কাছে আবেদনও জানানো হয়। তবে সেই আশা এখন অনেকটাই ম্লান।
ফলে সরকারের পদত্যাগের এক দফার সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিএনপির সামনে হাজির তাদের নেত্রীর মুক্তির বিষয়টি।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে চান তারা। এ জন্য অক্টোবরে আন্দোলনের মাত্রা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে করতে চান।
এর আগে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অক্টোবরের মাঝামাঝি আন্দোলনের শীর্ষে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিল দলটি। এ জন্য সরকারকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল বিএনপি। আর এই আল্টিমেটামের মধ্য দিয়ে তারা তাদের আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান প্রাধান্য হিসেবে হাজির হয় খালেদা জিয়ার অসুস্থতা। এন নেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি নেতারা গভীর উদ্বিগ্ন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথিকৃৎ। কোনো আক্রমণাত্মক পন্থা পরিহার করে আমরা ধারাবাহিক কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করব। এই আন্দোলন-কর্মসূচি সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনী সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য করবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসাকে সহজতর করবে।”
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া ইস্যুতে কঠোর কর্মসূচির জন্য দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্রমশ চাপ দিচ্ছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, “বর্তমান কর্মসূচির বাইরেও নতুন কিছু কাজ চলছে- একটি টার্নিং পয়েন্ট যা সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে। সংশ্লিষ্ট কারণেও কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। আন্দোলনের কাঠামো নিয়ে এখনো নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।”
তবে বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আন্দোলনের বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ বা কর্মসূচি প্রকাশ করেননি।
বিএনপি আশা করছে, আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অক্টোবরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে যেতে পারে। আর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। অন্যথায় দলটি নির্বাচনে অংশ নেবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এই আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত দেখতে চান তারা। দলের নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আন্দোলন হরতাল বা সংঘর্ষের দিকে যাবে কিনা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলছেন, জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে যে ধরনের কর্মসূচি দেওয়া দরকার, তাই দেবে বিএনপি।
চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বেড়েছে বলে মনে করে বিএনপি। তবে তারা স্বীকার করেন, দাবি আদায়ের জন্য এই সম্পৃক্ততা খুবই অপ্রতুল।
বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে আদালত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় ও ঢাকা শহর ঘেরাও করার মতো কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে তারা। ঢাকা ছাড়িয়ে আন্দোলন সর্বত্র পৌঁছে যাবে বলে বিশ্বাস তাদের।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, “তারা যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে তারা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।”



