ফরিদপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ রিংকু এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের দ্বন্দে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও কয়েকজন।
নিহত কবির ভুইয়া (৫০) শহীদুলের সমর্থক। এ সময় শহীদুলের সমর্থকদের অন্তত তিনটি দোকান লুটপাট করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আজ বুধবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে নগরকান্দা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শামা ওবায়েদের সমর্থকরা নগরকান্দা বাজারের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এ ঘটনার পর বিকেলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে শামা ওবায়েদকে খুনি আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শহীদুল ইসলাম বাবুল।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম একটি মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে নগরকান্দার জয়বাংলা মোড় হয়ে নগরকান্দা বাজারে একটি পথসভা ও তালমার মোড়ে একটি পথসভা করে ফরিদপুর শহরে জনসভা করতে যাওয়ার কথা ছিল।
কয়েকজন প্রত্যাক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে শহীদুল ইসলাম বাবুলকে স্বাগত জানিয়ে নগরকান্দা উপজেলা সদরে তার সমর্থকদের বানানো দুইটি তোড়ন ভেঙ্গে ফেলে শামা ওবায়েদের সমর্থকরা। এ ঘটনায় শহীদুলের সমর্থক নগরকান্দা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর মাতুব্বরকে ধাওয়া দেয় শামা ওবায়েদের সমর্থকরা।
এ নিয়ে গতকাল রাত থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ সকালে নগরকান্দা বেইলিসেতুর বাজারের দিকে শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা ও জুঙ্গুরদী বাসস্ট্যান্ডের পাড়ে শামা ওবায়েদের লোকজন অবস্থান নেয়। সকাল থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত এই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শহীদুল ইসলামের কয়েকজন সমর্থক আহত হন। পরে শামা ওবায়েদের লোকজন শহীদুল ইসলাম বাবুলের সমর্থক নগরকান্দা বাজারের লঞ্চঘাটা এলাকায় অবস্থিত জাকির হোসেনের চালের ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ভাঙচুর করে এসব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরকান্দা সদর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমার দোকানের সামনে দিয়ে লোকজন রামদা, ছ্যান-দা নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এরা কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথা শুনছেনা, মানছে না। গত ১৩ বছর ধরে আমি নগরকান্দা বাজারে ব্যবসা করি। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমন মহড়া বাজারে আমার কখনও চোখে পড়েনি “
দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে শহীদুলের সমর্থকরা পালিয়ে যান। বর্তমানে বাজারে ঢাল কাতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেইলি সেতু, লঞ্চঘাটা ও সদর বাজার এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন শামা ওবায়েদের সমর্থকরা।
এদিকে, শহীদুল ইসলাম দুপুর দেড়টার দিকে শহীদুল ইসলাম বাবুল মহাসড়ক ধরে তালমার মোড় এলাকায় এসে পৌঁছান। সেখানে তিনি একটি পথসভায় বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমি নগরকান্দা উড়ে আসিনি। আন্দোলন সংগ্রাম করে নেতা হয়েছি। বিএনপি মধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে গেছে। তারাই দলের মধ্যে এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করি। কেউ অশান্তি করলে তার দাতভাঙ্গা জবাব কীভাবে দিতে হয় তা জানে শহীদুল ইসলাম। আমি জনগণের জন্য দল করি। এমন কোনো শক্তি নেই আমাকে আমার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। কোনো ষড়যন্ত্রের পরোয়া আমি করি না। রাজনীতি করলে সুন্দর ভাবে শান্তির সাথে করুন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না।”
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “বর্তমান সময় উৎসবের সময় নয়। এই সময় গেট বানিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দেওয়ারও সুযোগ নেই। যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তারা এ বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি, এই কারণেই হয়তো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ওখানে আমার পক্ষ বলে কেউ নেই “
তিনি আরও বলেন, “এ মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এ বিষয়টি আমি অবশ্যই দেখবো। তবে আমাদের দলের নির্দেশ আছে বহিরাগত কাউকে দলে নেওয়া যাবে না সে ক্ষেত্রে আমরা যেন এসব না করি।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যারা তোরণ নির্মাণ করে উৎসব করছেন ১৭ বছর তারা কোথায় ছিলেন?”
প্রসঙ্গত, শামা ওবায়েদ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে শহীদুল ইসলাম নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের বাসিন্দা।
নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে আগে থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজকের ঘটনা তা প্রকাশ্য রূপ নিলো।
সংঘর্ষের বিষয়ে নগরকান্দা থানার ওসি আমিনুর রহমান বলেন, “কৃষকদলের শহীদুল সভা করতে চাইলে বাধা দেয় বিএনপির শামা ওবায়েদ গ্রুপ। এ নিয়ে দুই পক্ষ সকাল থেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে একজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের সংখ্যা জানা যায়নি। আমরা মাইকিং করে দুইপক্ষকে সরিয়ে দিতে বাধ্য করি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।”



