Saturday, June 13, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জার্সি পরে কি নামাজ হবে? যা বলছেন ইসলামি স্কলাররা

নামাজের সময় হলে এই জার্সি গায়ে দিয়েই মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেখা যায়

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় খেলার মৌসুম শুরু হলে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে প্রিয় দল বা তারকার জার্সি পরে চলাফেরা করার প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। অনেক সময় নামাজের সময় হলে এই জার্সি গায়ে দিয়েই মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে জার্সি পরে নামাজ পড়া যাবে কি না এবং প্রিয় দলগুলোর খেলা দেখার বিধান কী, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি এই বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুকাহায়ে কেরাম (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) ও মুফতিগণ পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও ফতোয়া দিয়েছেন।

টেলিভিশন বা স্টেডিয়ামে প্রচলিত বিভিন্ন খেলা উপভোগ করার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বর্তমানে প্রচলিত প্রায় সব বাণিজ্যিক খেলাই কোনো না কোনোভাবে জুয়া ও বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। এছাড়া এসব খেলা দেখার পেছনে বিপুল পরিমাণ সময় ও অর্থের অপচয় হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্দা লঙ্ঘন ও অশ্লীলতাও জড়িয়ে থাকে। সুতরাং দ্বীনি ও দুনিয়াবি ক্ষতি থেকে বাঁচতে মুসলমানদের জন্য এসব খেলাধুলা ও তা নিয়ে অতিউৎসাহি আচরণ পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

সাধারণত বিভিন্ন স্পোর্টস জার্সিতে দলের লোগো, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন কিংবা কোনো প্রাণীর ছবি বা প্রতীক যুক্ত থাকে। এই ধরনের জার্সি পরে নামাজের বিধানকে দুই ভাগে ব্যাখ্যা করেছেন স্কলাররা:

১. কোনো প্রাণীর ছবি বা লোগো থাকলে:
ইসলামি শরিয়তে কোনো মানুষের অবয়ব কিংবা যেকোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরা হারাম। স্কলারদের মতে, জার্সিতে যদি কোনো প্রাণীর ছবি একদম স্পষ্ট ও দৃশ্যমান থাকে, তবে তা পরে নামাজ পড়া ‘মাকরুহে তাহরিমি’ বা অত্যন্ত অনুচিত হবে। তবে এই অবস্থায় নামাজ আদায় করলে নামাজ বাতিল হবে না, কষ্টেসৃষ্টে নামাজ হয়ে গেলেও তা ত্রুটিপূর্ণ ও গুনাহের কারণ হবে। আর যদি জার্সির ছবি বা লোগোটি আকারে অত্যন্ত ছোট কিংবা অস্পষ্ট হয় (যা দূর থেকে সহজে চেনা যায় না), তবে নামাজ মাকরুহ হবে না।

২. প্রাণহীন বস্তুর ছবি থাকলে:
জার্সিতে যদি কোনো প্রাণীর ছবি না থেকে কেবল প্রাণহীন বস্তু—যেমন গাছপালা, পাহাড়, নদী, ঝরনা বা জ্যামিতিক নকশা থাকে, তবে তা শরিয়তে বৈধ। এই ধরনের পোশাক পরে নামাজ পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। (সূত্র: আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ: ৪৪৮৯)।

ফুকাহায়ে কেরাম মনে করিয়ে দেন যে, নামাজ হচ্ছে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজিরা দেওয়া। তাই যেকোনো সাধারণ বা খেলাধুলার পোশাক পরে নামাজে দাঁড়ানোর চেয়ে শালীন ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত।

এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—

يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ
“হে বনি-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা (সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক) পরিধান করে নাও।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)

তাই মুফতিগণের পরামর্শ হচ্ছে, যেকোনো ধরনের খেলাধুলার জার্সি পরে মসজিদে যাওয়া বা নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত। নামাজের পবিত্রতা ও একাগ্রতা বজায় রাখতে সব সময় পরিষ্কার, মার্জিত ও সুন্নতি পোশাক পরিধান করাই একজন আদর্শ মুসলমানের প্রধান কর্তব্য।

   

About

Popular Links

x