২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’-এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? একের পর এক ম্যাচের নিখুঁত ও সঠিক ফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও পলের সেই জ্যোতিষী ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোরিয়ামের পশুপাখিরা। কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি, তা নিয়ে প্রাণী-জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণী ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি বিনোদন ও উত্তেজনার খোরাক জোগাচ্ছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রাণীদের এমন কিছু মজার ও বৈচিত্র্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর চিত্র তুলে ধরা হলো:
মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা চিড়িয়াখানায় আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ পর্বের। সেখানে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পতাকা ও প্রতীকের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয় প্রাণীদের। চিড়িয়াখানার দুটি ‘ক্যাপিবারা’ (এক প্রকার বৃহৎ ইঁদুরজাতীয় প্রাণী) বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সরাসরি বেছে নিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকোকে। এটি তাদের নিখাদ দেশপ্রেম নাকি পতাকার পেছনে লুকিয়ে রাখা খাবারের লোভ, তা অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একই চিড়িয়াখানার গরিলা ‘ফউস্তিনা’ তার পছন্দের দলের জার্সির কাটআউট বেছে নিয়ে জানিয়েছে, এবারের শিরোপা জিততে পারে স্পেন। তবে স্পেনের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ নিয়ে তার সহচর ৩৯ বছর বয়সী গরিলা ‘চেঞ্চা’র মত আবার ভিন্ন। চেঞ্চার বিশ্বাস, উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হারবে স্পেন।
অন্যদিকে, সেখানকার দুই জিরাফের অনুমান, গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গো শক্তিশালী কলম্বিয়াকে হারিয়ে দেবে। আর এক হাতি তো মেক্সিকোর পতাকার দিকে বল গড়িয়ে দিয়ে আগেই রায় দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনায়াসেই হারাবে মেক্সিকো।
সব প্রাণীর ভবিষ্যদ্বাণী যে মিলছে, তা কিন্তু নয়। যেমন, ১৪ বছর বয়সী পুমা ‘মুলুক’ মনে করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে হারবে দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের কার্ডবোর্ডে ঝোলানো মাংসের মধ্যে সে চেক প্রজাতন্ত্রের দিকের মাংসটি খেয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে ম্যাচটি জিতে পুমার হিসাব ওলটপালট করে দেয়।
এদিকে কানাডায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘সুইমবাপে’ নামের এক জ্যোতিষী গোল্ডফিশ। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা এই গোল্ডফিশটি অ্যাকোরিয়ামে দুই দেশের পতাকার মধ্যে সাঁতরে একটিকে বেছে নেয়। চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ২০টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিরই সঠিক ফল অনুমান করেছে সে। জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার জয়ের পূর্বাভাসও মিলেছে এই গোল্ডফিশের কল্যাণে।
ইংল্যান্ডের কেন্টের একটি বন্যপ্রাণী পার্কের চার মাস বয়সী শিম্পাঞ্জি ‘জেন’ ফুটবল ভক্তদের নজরে এসেছে। ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের আগে দুই দেশের পতাকার মধ্যে ইংল্যান্ডকে বেছে নিয়েছিল সে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও চলছে এই উন্মাদনা। রিও ডি’জেনেইরোর একটি অ্যাকোরিয়ামে ‘রিতিনহা’ নামের এক হাঙর ব্রাজিলের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করলেও সেটি মেলেনি। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ‘নিম্বুস’ নামের একটি পোষা বিড়াল সঠিকভাবে অনুমান করেছিল যে ম্যাচটি ড্র হতে চলেছে।
বিশ্বকাপের মহোৎসব যত জমে উঠছে, এই প্রাণী-জ্যোতিষীদের জনপ্রিয়তাও ততই আকাশ ছুঁয়েছে। যদিও এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও কোন প্রাণীর জাদুকরী অনুমান শেষ পর্যন্ত শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।



