বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু বছরের আক্ষেপ অবশেষে ঘুচলো মিশরের। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে হোসাম হাসানের দল। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ধাক্কা খায় মিশর। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। গোল হজমের পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিশর। তবে প্রথমার্ধে কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেও সমতা ফেরাতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহ, ইমাম আশুররা।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করে মিশরকে সমতায় ফেরান মোস্তাফা জিকো। গোলের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
৬৭ মিনিটে আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। জিকোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে প্রবেশ করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। এরপর ঠান্ডা মাথার ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন লিভারপুল তারকা। বিশ্বকাপে এটি ছিল সালাহর তৃতীয় গোল, যা তাকে মিশরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা এনে দিয়েছে।
জয়ের শেষ সিলমোহর আসে ৮২ মিনিটে। সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে। ফলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মিশর।
প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করার পর এই জয় মিশরের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। ফলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল সালাহর দল। এখন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।



