Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএ-ওয়ালা ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালে পা রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৪ এএম

ফিফা বিশ্বকাপের আসরে এখন পর্যন্ত কোনো সেমিফাইনালে হারেনি আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপেও সেই ধারা অব্যাহত রাখল আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনালে ওঠার পথে লিওনেল স্কলোনির শিষ্যদের সামনে বাধা ছিল নকআউট পর্বে একের পর এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রিয়াল মাদ্রিদ ডিএনএ ধারণ করা ক্রোয়েশিয়া।

কিন্তু হার না মানসিকতা নিয়েও আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তাই পেল না ক্রোয়েশিয়া। হুলিয়ান আলভারেজের দুই গোলে গতবারের রানার্সআপকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখল দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

আগামী ১৮ ডিসেম্বরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে আর্জেন্টাইনদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স কিংবা মরক্কো।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া একাদশ নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে মাঠে নামে ক্রোয়েটরা। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস ম্যাচের একাদশ থেকে দুজনকে বাদ দিয়ে ক্রোয়েটদের বিপক্ষে দলকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কলোনি। ম্যাচের শুরু থেকে ক্রোয়েশিয়া বল দখলে রেখে আক্রমণে উঠছিল। সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টিনাও বেশ কয়েকবার ওপরে ওঠার চেষ্টা করে। যদিও প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না কোনো দলই।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে প্রথমবারের মতো গোলমুখে শট নেয় আর্জেন্টিনা। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এঞ্জো ফার্নান্দেজের নেওয়া বাঁকানো শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। মিনিট দুয়েক পর প্রতি আক্রমণে উঠেছিল আর্জেন্টিনাও। তবে অধিনায়ক লুকা মডরিচে আর্জেন্টিনার ক্রস হেডে ক্লিয়ার করে দেওয়ায় কোনো বিপদ হয়নি ক্রোয়েশিয়ার।

৩২ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সে ঢুকে পড়া হুলিয়ান আলভারেজকে লিভাকোভিচ অবৈধভাবে বাধা দিলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ক্রোট গোলরক্ষক লিভাকোভিচ হলুদ কার্ড, একই শাস্তি হয় প্রতিবাদ করতে আসা ক্রোয়েট মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচেরও। তবে ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করতে ভুল হয়নি লিওনেল মেসির।

এই গোলের মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে পঞ্চম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছুঁয়ে ফেললেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পাশাপাশি ১১ গোল করে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটাও নিজের করে নিলেন মেসি।

ম্যাচের আগে ক্রোয়েট অধিনায়ক লুকা অবশ্য বলেছিলেন, তার দল রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএ বহন করে। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়েও ফেরার সামর্থ্য তাদের আছে। কিন্তু মেসি ম্যাজিকে সেই ফিরে আসার গল্প এ রাতে আর লেখা হলো না গতবারের ফাইনালিস্টদের।

মিনিট পাঁচেক পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত প্রতি আক্রমণে লিওনেল মেসি বল বাড়িয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজের দিকে। দুরন্ত গতির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে প্রাণপণ চেষ্টা করেও আটকে রাখতে পারেননি ক্রোয়েট ডিফেন্ডাররা। নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে একাই জালে জড়িয়ে দেন আলভারেজ। ২০১০ বিশ্বকাপের গঞ্জালো হিগুয়েইনের পর প্রথমবারের মতো মেসি বাদে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলার বিশ্বকাপে তিন গোল করলেন।

দুই মিনিট পর তৃতীয় গোলের দেখা পেয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নেওয়া হেড কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন লিভাকোভিচ। ফিরতি কর্নার থেকে মেসির নেওয়া কর্নার গোলমুখে বাঁক নিলে রুখে দেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক।


আরও পড়ুন- মডরিচ: আমরা রিয়াল মাদ্রিদের মতো হার না মেনে লড়ে যাই


প্রথমার্ধের শেষদিকে অবশ্য ব্যবধান কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া। তবে জমাট আর্জেন্টাইন রক্ষণের বিরুদ্ধে সুবিধা করে উঠতে পারেনি ক্রোট ফরোয়ার্ডরা। ফলে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মধ্যবিরতিতে যায় লিওনেল স্কলোনির শিষ্যরা।

দুই গোল পরিশোধে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামায় দুই অ্যাটাকার মিস্লাভ ওরসিচ এবং নিকোলা ভ্লাসিচকে। মিনিট তিনেক পর ব্রাজিলের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করা ব্রুনো পেতকোভিচকেও মাঠে নামান ক্রোয়েশিয়ান কোচ। তবে এরপরেও দুর্ভেদ্য আর্জেন্টাইন রক্ষণ ভেদ করতে পারছিল না গতবারের রানার্সআপরা।

লিওনেল মেসি ৫৭ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় গোল প্রায় এনেই দিয়েছিলেন। আলভারেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদানের পর দুই ক্রোয়েট ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। তবে ডি-বক্সের ছয় গজ এলাকার বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের বাঁ পায়ের নেওয়া শট ফিরিয়ে দেন লিভাকোভিচ।

পাঁচ মিনিট পর প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা রক্ষণের পরীক্ষা নিতে সক্ষম হয় ক্রোয়েশিয়া। বাঁ দিক থেকে লুকা মডরিচের ফ্রি-কিকে হেড নিয়েছিলেন ক্রোয়েট ডিফেন্ডার দেজান লভ্রেন। তবে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি আর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় বিপদ হয়নি আর্জেন্টিনার।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায়। ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েট ডিফেন্ডার গাভার্দিওলকে নাকানিচুবানি খাইয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। ৩৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডে বাড়ানো পাসে আলতো করে পা ছুঁইয়েই নিজের দ্বিতীয়য় গোল পেতে কোনো সমস্যা হয়নি আলভারেজের।

৭৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ইভান পেরিসিচ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া শট তালুবন্দি করতে বেগ পেতে হয়নি আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্টিনেজের।

৮৩ মিনিটে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মাঠে নামা পাওলো ডিবালা খুব সুন্দর করে ম্যাক অ্যালিস্টারের উদ্দেশে লবের মাধ্যমে বাড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের ভলি পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।

মিনিট দুয়েক পর গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। লভ্রো মায়েরের বাঁকানো কর্নারে আলতো করে মাথা ছুঁইয়েছিলেন পেরিসিচ। কিন্তু ফাঁকায় থাকা অরক্ষিত লভ্রেন পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের বাকি সময়টাও ক্রমাগত আক্রমণ করে গেলেও অটল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ক্রোয়েশিয়ানরা। ফলে তিন গোলের ব্যবধানে পাওয়া জয় নিয়েই আট বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ল্যাটিন আমেরিকান পরাশক্তিরা।

   

About

Popular Links

x