Wednesday, June 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়রা (প্রথম পর্ব)

নিদেনপক্ষে কোনো আসরের শেষ চারে পা না রেখে কেউ এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হতে পারেননি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:৪০ পিএম

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর বসে চার বছর পরপর। এক সময় ক্রিকেট বিশ্বকাপ বলতে শুধু এই টুর্নামেন্টকেই বোঝানো হতো। কিন্তু পরবর্তীতে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ টি-টোয়েন্টির জন্য পৃথক বিশ্বকাপ আসায় এটির জায়গা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধানের পার্থক্য থাকলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় চার বছর পরপরই।

ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে, পুরো আসরে যিনি সেরা খেলোয়াড় হন, তার হাতেই ওঠে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়। তবে প্রথম চার টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। এরপর একে একে এই খেতাব উঠেছে আট খেলোয়াড়ের হাতে।

এখন পর্যন্ত যারা আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন, তারা প্রত্যেকেই সেই আসরে দলের হয়ে অন্তত সেমিফাইনাল খেলেছেন। নিদেনপক্ষে শেষ চারে পা না রেখে কেউ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হতে পারেননি। চলুন তাহলে দেখে নিই এখন পর্যন্ত কাদের হাতে উঠেছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব-

১৯৯২: মার্টিন ক্রো (নিউজিল্যান্ড)

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম চার আসরে নিউজিল্যান্ডের অর্জন বলার মতো কিছুই ছিল না। কিন্তু মার্টিন ক্রোর অধিনায়কত্বে ১৯৯২ বিশ্বকাপে সেই কিউইরাই হয়ে উঠলো ভিন্ন এক দল। নেতৃত্বগুণ আর ক্রিকেটের ধ্যানধারণা বদলে দেওয়া কৌশলে পুরো দলের খোলনলচে বদলে দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন ক্রো। মিডল অর্ডারে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে মূলমন্ত্র বানিয়ে হয়ে উঠেছিলেন দলের বড় ভরসা।

সেই টুর্নামেন্টে শুধু নামেই না, ব্যাট হাতেও নিউজিল্যান্ডকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ক্রো। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের লিগ পর্বে সেই আসরের অন্যতম আয়োজক ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। এছাড়া, লিগ পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৪, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৮১ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৩ রান করেন ক্রো।

মাত্র এক ম্যাচে হারের মুখ দেখে লিগ পর্বে শীর্ষে থেকেই সেমিফাইনালে নাম লেখায় নিউজিল্যান্ড। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। বলে রাখা ভালো, লিগ পর্বে ব্ল্যাক ক্যাপসদের একমাত্র পরাজয়টা এসেছিল পাকিস্তানিদের বিপক্ষে। সেমিফাইনালেও চার উইকেটের জয় তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হন্তারক হয়ে ওঠে পাকিস্তান। তবে সেই ম্যাচে ঠিকই হেসেছিল ক্রোয়ের ব্যাট, সাত চার ও তিন ছক্কায় খেলেছিলেন ৮৩ বলে ৯১ রানের এক ইনিংস।

১৯৯২ বিশ্বকাপে ক্রোয়ের ব্যাট থেকে ছুটেছিল রানের ফোয়ারা। পুরো আসরে ৯ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফ সেঞ্চুরির মাধ্যমে ১১৪ গড়ে ও ৯০.৮৩ স্ট্রাইকরেটে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪৫৬ রান করেছিলেন এই কিউই ব্যাটার। এই ডানহাতি ব্যাটারের চেয়ে আর কেউই সেবার ব্যাট হাতে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলতে পারেননি। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং পারফরম্যান্স আর অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তাই ওঠে ক্রোয়ের হাতেই।

১৯৯৬: সনাৎ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)

১৯৯৬ বিশ্বকাপের আসরটি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছিল। কেউ অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বকে; কেউ বা অরবিন্দ ডি সিলভার অলরাউন্ড নৈপুণ্যকে; আবার কেউ বা ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার জন্য আসাঙ্কা গুরুসিনহাকে শ্রীলঙ্কার বিশ্বজয়ের কৃতিত্বের ভাগ দেন। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে লঙ্কানদের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সনাৎ জয়াসুরিয়ার।

তবে জয়াসুরিয়া যে পুরো আসরে এককভাবে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাও না। তবে নিজের দিনে জয়াসুরিয়াকে ছাপিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না কারোরই। গ্রুপপর্বে ৯ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৭৬ বলে জয়াসুরিয়ার ৭৯ রানের ওপর ভর করে ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য অনায়সেই পেরিয়ে যায়। এমনকি আট চার ও পাঁচ ছয়ে ভারতের পক্ষে ১৩৭ বলে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা শচীন টেন্ডুলকারও সেদিন ম্লান হয়ে যান লঙ্কান ব্যাটারের সামনে।

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষেও ব্যাট হাতে পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় মাত্র ২৭ বলে ৪৪ রান করে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জয়াসুরিয়া। তবে খুনে মেজাজের ব্যাটিংয়ের জন্য মাতারা হারিকেন খ্যাত এই বাঁহাতি ওপেনার তার আসল রূপ দেখান কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৩ চার ও তিন ছয়ে জয়াসুরিয়ার ৪৪ বলে ৮২ রানের ইনিংসের সুবাদে শেষ আটে ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৩৬ রানের লক্ষ্য ৫৬ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে শেষ চারের টিকেট পায় লঙ্কানরা।

সেমিফাইনালেও শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক ছিলেন জয়াসুরিয়াই। তবে ব্যাট হাতে না, বল হাতে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও ৪৭ বলে অরবিন্দ ডি সিলভার ৬৬ রানের কল্যাণে ২৫১ রানের একটা লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। বল হাতে বাঁহাতি স্পিনে ৬৫ রান করা টেন্ডুলকারের পাশাপাশি সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ও অজয় জাদেজাকে ফিরিয়ে ৭ ওভার বল করে মাত্র ১২ রানের খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন জয়াসু্রিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে অবশ্য তিনি ছিলেন নিজের ছায়া।

পুরো টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৩৬.৮৩ গড়ে, ১৩১.৫৪ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ২২১ রান করেছিলেন জয়াসুরিয়া। অন্যদিকে, বল হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ৭ উইকেট। পরিসংখ্যানের অঙ্কে হয়তো যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য গড়পড়তা পারফরম্যান্সই বলতে হবে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বা উইকেট শিকারি- কোনো তালিকায়ই শীর্ষ দশে নাম ছিল না জয়াসুরিয়ার। তবে দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময়ে জ্বলে ওঠায় জয়াসুরিয়াই পেয়েছিলেন টুর্নামেন্টসেরার স্বীকৃতি।পুরস্কার হিসেবে পাওয়া লাল রঙের অডি এ৪ গাড়িটা আজও তার কাছে রয়েছে।

১৯৯৯: ল্যান্স ক্লুজনার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

২২ বছরের নির্বাসন শেষে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে আসার পর প্রথম আসরেই (১৯৯২) সেমিফাইনালে পৌঁছালেও অদ্ভুতুড়ে বৃষ্টি আইনের বলি হয়। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠেয় পরের আসরে গ্রুপপর্বে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলেও ক্যারিবীয় রাজপুত্র ব্রায়ান লারার অতিমানবীয়তায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে শেষ আট থেকে বিদায় নেয় প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ১৯৯৯ বিশ্বকাপটা তাই দক্ষিণ আফ্রিকানদের জন্য ছিল আক্ষেপ মেটানোর উপলক্ষ।

ব্যাটিংয়ে নেমে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পথ হারাবে আর ল্যান্স ক্লুজনার প্রোটিয়াদের সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করে ম্যাচ জেতাবেন- ১৯৯৯ বিশ্বকাপে এমনটা ছিল নিয়মিত এক দৃশ্য। পুরো টুর্নামেন্টে প্রয়োজনের সময় দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ফিনিশার হিসেবে দারুণভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন সব্যসাচী এই অলরাউন্ডার। ক্লুজনারকে সব্যসাচী অলরাউন্ডার বলার কারণ ব্যাটিংয়ে বাঁহাতি হলেও বল হাতে তিনি হয়ে উঠতেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার।

ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে বল হাতে ৩ উইকেট পেয়েছিলেন ক্লুজনার। সেই সঙ্গে চার বলে ১২ রানের ইনিংসে টানা তিনটি বাউন্ডারি মেরে ম্যাচও শেষ করেছিলেন তিনিই। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে  ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই ক্লুজনার ছিলেন উজ্জ্বল। ব্যাট হাতে পাঁচ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৪৫ বলে ক্লুজনারের ৫২ রানের ওপর ভর করেই ১৯৯ রানের পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। বল হাতে মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের জন্য সেটিই পর্বতসমান বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৪০ বলে ৪৮ রান করার পাশাপাশি বোলিংয়েও একটি উইকেট নিয়েছিলেন। কেনিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে অবশ্য ক্লুজনারকে ব্যাট হাতে নামতে হয়নি। তবে মাত্র ২১ রানের খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্লুজনার ৫২ রান করে অপরাজিত থাকলেও তিনি বাকি ব্যাটারদের সঙ্গ না পাওয়ায় হেরে যায় প্রোটিয়ারা।

গ্রুপপর্বের মতো সুপার সিক্সেও ক্লুজনারই যেন হয়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্ধারকর্তা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ২২০ রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৮ রানেই ৫ উইকেট হারালেও ৪১ বলে তিনটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কার সাহায্যে ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এ অলরাউন্ডার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ব্যাট হাতে অনুজ্জ্বল থাকলেও বোলিংয়ে ঠিকই ২টি উইকেট নিয়েছিলেন ক্লুজনার।

সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচে গিবসের সেঞ্চুরির পর ২১ বলে চারটি বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ক্লুজনারের ৩৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গিবসের ক্যাচ মিস আর সেই সুযোগে ১১০ বলে অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর ১২০ রানের ইনিংসে পরাজিত হয় প্রোটিয়ারা। সেমিফাইনালেই অবশ্য সেই হতাশা লাঘবের সুযোগ পেয়েছিলেন ক্লুজনার। শেষ চারে যে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল অস্ট্রেলিয়ানরাই।

অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেওয়া ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৬১ রানেই ৪ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্লুজনার যখন নামেন, তখনও প্রোটিয়াদের জিততে হলে ৩১ বলে ৪০ রান করতে হবে। ক্লুজনারের মারমুখী ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকানরা সহজে জয় পেয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু টেল এন্ডারদের কেউ যোগ্য সঙ্গ দিতে না পারায় এবং শেষ ওভারে অপর প্রান্তে থাকা অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ম্যাচ হয়ে যায় টাই। তবে ফাইনালের টিকেট পায় অস্ট্রেলিয়াই। চারটি বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১৬ বলে ৩১ রান করেও ক্লুজনার রইলেন পরাজিত দলেই।

ব্যাটিং ও বোলিং দুই ভূমিকাতেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপটা স্বপ্নের মতো কাটিয়েছিলেন ক্লুজনার। ৯ ম্যাচে আট ইনিংসে ব্যাট হাতে ১৪০.৫০ গড়ে দুই অর্ধশতকে ২৫০ রান করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি বল নিয়ে হাত ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষের ১৭ উইকেট তুলে নিয়ে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও হয়েছিলেন ক্লুজনার। টানা তিনবার ম্যাচসেরা হলে মানুষ তাকে মনে রেখেছে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ট্র্যাজিক হিরো হিসেবেই। তবে ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের হাতেই উঠেছিল টুর্নামেন্টসেরার স্বীকৃতি।

২০০৩: শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)

১৯৮৩ সালে পুরো পৃথিবীকে চমকে দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতা ভারত এরপরের চার আসরে কখনোই ফাইনালে যেতে পারেনি। তবে ২০০৩ সালে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে আবারও নতুন করে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ভারত। ভারতীয়দের সেই স্বপ্নের বড় তুরূপের তাস ছিলেন লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। শচীন ব্যাট হাতে নামবেন আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে কচুকাটা করবেন- সেই আসরে এটাই ছিল নিয়মিত দৃশ্য।

পুল পর্বে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পথে ৫২ রান করেন টেন্ডুলকার। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে ৩৬ রান করলেও দল পরাজয়ের মুখ দেখে। এরপর একে এক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ বলে ৮১, নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৫১ বলে ১৫২, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৫ বলে ৯৮ রানের ইনিংস খেলেন শচীন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে টেন্ডুলকারের ইনিংসটা ওয়ানডে সর্বকালের সেরা ইনিংসের খুব সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা পাওয়ার দাবিদার।

পুল পর্বের রানবন্যা চালালেও সুপার সিক্সেও টেন্ডুলকারের ব্যাটে ধাঁর কিছুটা কমে এসেছিল। কেনিয়া আর নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৭ রান করেন এই কিংবদন্তি ডানহাতি ব্যাটার। ওই আসরের চমক কেনিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে অধিনায়ক গাঙ্গুলি ১১১ রান করে ম্যাচসেরা হলেও টেন্ডুলকার করেছিলেন ৮৩ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে প্রথম ওভারে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খুললেও পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি, ভারতকেও তাই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রানার্সআপ হিসেবেই।

২০০৩ বিশ্বকাপে শচীন যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছিলেন। ১১ ম্যাচে ৬১.১৮ গড়ে ৬৭৩ রান করে তিনি সেই আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে শচীন বিশ্বকাপের এক আসরের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন যা আজও টিকে আছে। পুরো টুর্নামেন্টে এই মাস্টার ব্লাস্টারের ব্যাট থেকে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস এসেছিল। সেবারে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সতীর্থ গাঙ্গুলির সঙ্গে তার ব্যবধান ছিল ২০৮ রানের। এমন অতিমানবীয়তার পর টেন্ডুলকারের হাতে টুর্নামেন্টসেরার স্বীকৃতি না উঠলেই বরং অবাক হতে হতো।

About

Popular Links