Friday, June 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাজধানীতে প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী ও তরুণ ডেভেলপারদের মিলনমেলা

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হিরো ইউনিয়ন ২.০’

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

গত এক বছরে দেশের প্রযুক্তি খাতে প্রথম চাকরি পাওয়া সাড়ে সাতশোর বেশি গ্র্যাজুয়েট, অর্ধশতাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হিরো ইউনিয়ন ২.০’। 

আজ শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন করে অ্যাডটেক প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রামিং হিরো।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের তরুণদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না; সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী চিন্তার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এসব দক্ষতাই বড় পার্থক্য গড়ে দেবে।

স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন ব্র্যাক আইটির সিনিয়র টেকনোলজি অ্যাডভাইজার শাহ আলী নেওয়াজ তপু, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ক্লাসিওর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান, মোমেন্টকো এআই-এর আঞ্চলিক প্রকৌশল ব্যবস্থাপক এস এম আসাদ রহমান, ইনোভেস টেকনোলজিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা মিনহাজ খান এবং স্ট্যাক লার্নারের প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম নাইম।  

‘কীভাবে একজন দক্ষ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া যায়’ শীর্ষক সেশনে রাইসুল কবির বলেন, প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য কেবল কোডিং জানাই যথেষ্ট নয়; সমস্যা বোঝা, ব্যবসায়িক চাহিদা অনুধাবন এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।  

রিমোট চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্যে প্রযুক্তি প্রশিক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ নাইম (এইচ এম নাইম) বলেন, আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা, পোর্টফোলিও নির্মাণ এবং ধারাবাহিক শেখার বিকল্প নেই।  

এছাড়া এআইনির্ভর সফটওয়্যার উন্নয়ন, মাল্টি-এজেন্ট সিস্টেম, প্রযুক্তি খাতে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, নেটওয়ার্কিং এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও রাখা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তি খাতে কর্মরত প্রোগ্রামিং হিরো গ্র্যাজুয়েটদের একত্র করা, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন প্রজন্মের ডেভেলপারদের অনুপ্রাণিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে অংশ নেন ৭৫০-এর বেশি চাকরিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট, ৫০টির বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ২২ জন বক্তা।

২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা প্রোগ্রামিং হিরো বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন প্রযুক্তি শিক্ষামঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি এবং চাকরিমুখী দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করছে।

অনলাইন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ার গাইডলাইন, মক ইন্টারভিউ, চাকরি প্রস্তুতি এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দিনব্যাপী আলোচনা, নেটওয়ার্কিং এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিরো ইউনিয়ন ২.০। অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তি খাতে নতুন সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের আরও সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

   

About

Popular Links

x