একটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জান সাব্বির। পড়াশোনার প্রয়োজনেই নিয়মিত কম্পিউটারে কাজ করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার পরিবারের কম্পিউটার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না।
ক্লাসের ফাঁকে কলেজের ল্যাবে কম্পিউটারের কাজগুলো সারতেন সাব্বির। এদিকে, তার ওয়েব ডিজাইন শেখার আগ্রহ ব্যাপক। কিন্তু কোথায় শিখবেন, কীভাবে কাজ পাবেন তার কিছুই জানা ছিল না। তবুও তার চেষ্টা থেমে থাকেনি।
একদিন কলেজের এক প্রিয় শিক্ষক সাব্বিরের আগ্রহ দেখে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ব্যাপারে কিছু তথ্য দেন। সব শুনে সাব্বিরের মনে হলো, এমন একটি আয়ের পথই তো খুঁজছিলেন! যেখানে নিজের মতো ঘরে বসেই কাজ করতে পারবেন এবং পরিবারকে সময় দিতে পারবেন।
কিন্তু শিখতে চাইলেই তো হবে না, সেজন্য একটি ল্যাপটপ প্রয়োজন। অসচ্ছল বাবার পক্ষে যা কিনে দেওয়া ছিল কঠিন। কয়েকটি গরুর দুধ বিক্রি ছিল তাদের সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। তবুও একটি গরু বিক্রি করে বাবা ল্যাপটপ কিনে দেন ছেলেকে।
এরপর সাব্বির খোঁজ নিয়ে ভর্তি হয়ে যান “শিখবে সবাই”-এর ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্সে। এ অফলাইন কোর্সের জন্য আরও কিছু টাকার প্রয়োজন হয় যা তার মা কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে যোগাড় করে দেন।

দৃঢ়প্রতিজ্ঞা নিয়েই ক্লাস শুরু করেন সাব্বির। মেন্টরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতেন।
কোর্সের একদম শেষ দিকে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভারে প্রথম কাজ পান। তার ৯ মাসের মাথায় “লেভেল-১” ব্যাজ পান। এর মাঝেই অস্ট্রেলিয়ান একটি কোম্পানিতে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কাজ শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং লোকাল কাজ মিলে বেশ ভালো সময় যাচ্ছে আসাদুজ্জামান সাব্বিরের। স্বাবলম্বী এই তরুণ পরিবারকেও সাহায্য করছেন নিয়মিত। বাবা-মা কে কিনে দিয়েছেন গবাদিপশু, বাড়িতে এনেছেন প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।
এমন অনেক সংগ্রাম এবং জীবন পরিবর্তনের সাক্ষী “শিখবে সবাই” পরিবারের প্রতিটি সদস্য। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং চেষ্টায় তরুণরা খুঁজে পাচ্ছেন আয়ের পথ। স্বনির্ভর সমাজ গঠনে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান “শিখবে সবাই”।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৬ লাখেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে।
“শিখবে সবাই” কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষিত বেকারকে আইটি সেক্টরে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়বে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থীকে আইটি দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাঝে প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইভার, আপওয়ার্ক-এর মতো জায়গায় কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করছেন অনেকেই।
স্বনির্ভর সমাজ গঠনে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘শিখবে সবাই'/ সৌজন্য ছবিউল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে শিখবে সবাই। প্রযুক্তিখাতে অবদান রাখতে শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। আইসিটি ডিভিশনের এলইডিপি, এলআইসিটি প্রজেক্টেও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিখবে সবাই অনলাইন লাইভ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আগ্রহীদের মাঝেও যুগোপযোগী আইটি ট্রেইনিং এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী লাইফ টাইম সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রজেক্টে সাফল্যের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং করে যাচ্ছে। যা তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে এবং দেশের অর্থনীতির উন্নয়নেও অবদান রাখছে।
শিখবে সবাই যেসব কোর্সে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এবং মোশন গ্রাফিক্স।



