চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা দুই প্রার্থীর ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসা প্রার্থীরা হলেন গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদ।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “গত ৪ আগস্ট তাদের ডোপ টেস্ট করানো হয় এবং উভয়ের ফল পজিটিভ আসে। পরীক্ষায় গাঁজা জাতীয় মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই চবির নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই তিন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর চূড়ান্ত ধাপে ওই দুই প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে তারা উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন।
নাট্যকলা বিভাগে প্রভাষক পদে তিন পদের বিপরীতে পরীক্ষায় প্রায় ৫০ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তিন ধাপের এই পরীক্ষার পর তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করেছিল কর্তৃপক্ষ। পরে সিন্ডিকেটে এ নিয়োগের অনুমোদন হয়।
এ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক হতে পারবেন না।”
এদিকে, এক প্রার্থী ইমরুল আসাদ আবার ডোপ টেস্ট করার কথা জানান। তিনি বলেন, “কোনো ভুল হতে পারে। আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আবার পরীক্ষা করাচ্ছি।”
আরেক প্রার্থী গোলাম রাব্বানি এসব ষড়যন্ত্র জানিয়ে বলেন, “সম্প্রতি অসুস্থ হওয়ায় আমি ঔষধ গ্রহণ করেছিলাম। সেটার প্রভাবে এমনটা হতে পারে। আমি প্রয়োজনে আবার আপিল করে পুনরায় ডোপ টেস্টে করাবো।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। ডোপ টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে, তাকে কোনোভাবেই নিয়োগ দেওয়া হবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখতেই এ ধরনের কঠোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।



