Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশ, ফুয়েল লোডিং হলো রূপপুরে

বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নাম লেখাল বাংলাদেশ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “আজ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির কাজ করা হয়েছে। জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের অংশ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ শুধু পাবনা নয়, দেশের অর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’

তিনি জানান, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী বছরের আগস্ট মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ বলেন, “আজ বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর দলে যোগ দিল যারা টেকসই উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে। নিঃসন্দেহে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার একটি প্রধান উপাদানে পরিণত হবে। রোসাটমের জন্য এই প্রকল্পটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়ন এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আই‌এইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই গ্রিড সংযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রটি থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্পটির দুটি ইউনিট পুরোপুরি সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২% যোগান দেবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরপর প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫% হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটের সক্ষমতার পুরো ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, ১,২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, যা পরবর্তীতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব।

   

About

Popular Links

x